
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম টেস্ট জিততে প্রায় অসম্ভব এক লক্ষ্যের পেছনে ছুটছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ৫১৩ রানের কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে জাকির হাসান ও নাজমুল হোসেনের ওপেনিং জুটি ভালো মতোই লড়ে যাচ্ছিল। শান্তর মতো হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন অভিষিক্ত জাকিরও। তবে লাঞ্চ থেকে ফিরেই ছন্দ পতন ঘটে ইনিংসের। ১২ রানের মধ্যে পড়েছে দুই উইকেট। এই মুহূর্তে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর ৫০ ওভারে ২ উইকেটে ১৩১। জাকির ৫৮ রান নিয়ে ব্যাট করছেন এবং লিটন এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি।
অথচ সকাল থেকে বড় জুটির দিকে এগুচ্ছিলেন শান্ত-জাকির। প্রথম সেশনের বিরতি থেকে ফেরার পরই শান্ত মনোযোগ হারিয়েছেন। উমেশ যাদবের অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল খেলার চেষ্টা করে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন। অবশ্য প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো কোহলি ক্যাচটি নিতে পারেননি। তার জায়গায় দুইবারের চেষ্টায় উইকেটকিপার পান্ত ক্যাচটি লুফে নেন। শান্তর বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙে ভারতের বিপক্ষে গড়া প্রথম শতরানের জুটি। শান্ত ৬৭ রানে আউট হয়েছেন। ১৫৬ বলে ৭ চারে নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি।
দিনের শুরুতে সাবলীল ব্যাটিং করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এদিন ১৫ ইনিংস পর হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। অশ্বিনের বলটি অফসাইডে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে ১০৮ বলে চার ছিল ৬টি।
শান্তর আউটের পর ক্রিজে নামা ইয়াসিরও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। অক্ষর প্যাটেলের গুড লেন্থের বলটি ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু লাইন মিস করলে বোল্ড হন তিনি। তাতে ১২ রানের মধ্যে কাটা পড়েন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার।
এর আগে অভিষিক্ত জাকিরও হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। দারুণ ছন্দে থেকেই চট্টগ্রামে তার অভিষেক হয়েছে। ২০২১ সালে এক বর্ষপঞ্জিকায় ১ হাজার রান করে আলোচনায় ছিলেন ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটার। চলতি বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪৪২ রান করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। এর পর তো ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে তার ম্যাচ বাঁচানো ১৭৩ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস সুযোগ করে দেয় জাতীয় দলে। প্রথম ইনিংসে দৃঢ়তা দেখালেও ২০ রানের বেশি করতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। অক্ষর প্যাটেলের প্রথম বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে চার মেরে ৪৯ রানে পৌঁছান তিনি। একবল পরে মিডঅনে সিঙ্গেল নিয়ে তুলে ফেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে ১০১ বলে চার মেরেছেন ৭টি।
একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, চতুর্থ ইনিংসে ৫১৩ রান চেজ করার ইতিহাস নেই টেস্টে। ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা বলেই অনেক কিছু ঘটে প্রতিনিয়ত। কেউ রেকর্ড গড়েন, সেই রেকর্ড আবার অন্য কেউ নিজের করে নেন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চেজ করে জেতার রেকর্ড ২১৭ রান হলেও ক্রিকেট ইতিহাসে ৪১৮ রান চেজ করে জেতার রেকর্ড আছে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
