ঢাকা : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিএনপির শাসনামলে নিজের উপর হামলা ও বীভৎসতা বর্ণনা দিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক চলাকালে প্রসঙ্গক্রমে বিএনপি শাসনামলের দুঃসহ স্মৃতি, অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মোশাররফ।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার কাছে জানা গেছে অভ্যন্তরীণ এই আলোচনার কথা।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম নিউমার্কেট মোড়ে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আমার পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছিলো।
শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯২ সালের ৮ মে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের সম্মেলনে সন্ত্রাসীরা আমাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। জমির উদ্দিন নামে আমাদের এক সহকর্মী ঘটনাস্থলে নিহত হন। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা পুনরায় আমার গাড়ি থামিয়ে ব্রাশফায়ার করে, আমার সামনেই নির্মমভাবে হত্যা করে আমার গাড়িতে থাকা মুক্তিযোদ্ধা আবুল বশরকে।
এর আগে অনির্ধারিত এক আলোচনায় উঠে আসে রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার প্রসঙ্গ।
মূলত এ নিয়ে কথা বলতে গিয়েই নিজের উপর হামলার এই উপমা দেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। কথা বলেন আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও।
তারা বলেন, মির্জা ফখরুলের ওপর হামলার ঘটনায় যারা দলের অভ্যন্তরে দলের নেতাদেরই দোষ খোঁজার চেষ্টা করছেন, তারা মূলত ফখরুলের জন্য মায়াকান্না করেছেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি ১৮ জুন সকালে মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলার সময় ড. হাছান মাহমুদ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ওইদিন বিকেলে তিনি এলাকার উন্নয়ন কাজে যোগ দিতে রাঙ্গুনিয়া যান। হাছান মাহমুদের নামে মিথ্যা অপবাদ রটাতেই বিএনপি ওই হামলার নাটক সাজায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বেগম মতিয়া চৌধুরীও বিএনপি আমলে একাধিক হামলার শিকার হয়েছেন জানিয়ে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন; তিনি বলেন, বিএনপি ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা কথায় কথায় নাটক মঞ্চস্থ করতে বেশ পারঙ্গম। সেদিন রাঙ্গুনিয়ার ঘটনাটিও ছিল একটি সাজানো নাটক। বহুল আলোচিত সেই নাটকের জন্ম দিয়ে পরদিনই ফখরুল সাহেব খোশমেজাজে বিদেশ পাড়ি জমান।
এসময় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং মির্জা ফখরুল ইস্যুতে সহমত পোষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিএনপি-জামায়াতের আমলে তার সফরের বিভিন্ন সময় হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত আ.লীগের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র অভ্যন্তরীণ এই কথোপকথনের বিষয় একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করে জানান, সেদিন শেখ হাসিনার তোপের মুখেও পড়তে হয়েছে রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় যারা সমালোচনা ও মায়াকান্নার চেষ্টা করেছিলেন তাদেরও।
কার্যনির্বাহী কমিটির সভার অভ্যন্তরীণ এ আলোচনা একটি অনলাইনে বিকৃত করে প্রকাশ করেছে বলে আ. লীগের একাধিক নেতা দাবি করেছেন। তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো নেতাকে এককভাবে দোষারোপ করা হয়নি।
