
ঢাকা : দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে হারের পর টাইগারদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ছিল। চট্টগ্রাম থেকে মিরপুর এসেও যেন সেই একই চিত্র বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের। ভারতীয় বোলারদের সামনে রঙহীন সাকিব আল হাসানের দল।
সিরিজের সমতা ফেরানোর লড়াইয়ে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের আশা যাওয়ার মিছিলে কেবল ব্যতিক্রম ছিল মুমিনুল হকের ব্যাট। শেষ পর্যন্ত রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও উমেশ যাদবের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২২৭ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।
চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টের পর একাদশ থেকে দুইটি পরিবর্তন নিয়ে আজ মাঠে নামে বাংলাদেশ। ইয়াসির আলী রাব্বির জায়গায় দলে ডাক পান মমিনুল হক। পেসার ইবাদতের পরিবর্তে এসেছেন তাসকিন আহমেদ।
দিনের শুরুতে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ইনিংসের প্রথম ঘণ্টা নিরাপদে কাটিয়ে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও জাকির হাসান। তবে এক যুগ পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে বাংলাদেশের উদ্ধোধনী জুটি ভাঙেন জয়দেব উনাদকাত। ৩৪ বলে ১৫ রান করা জাকির হাসানকে ফেরান এই বাঁহাতি এই পেসার।
এরপরের ওভারেই সাজঘরে ফিরেন শান্ত। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট না চালিয়ে পা বাড়িয়ে দেন এই বাঁহাতি ওপেনার। আর এতেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন শান্ত। ৫৭ বলে ২৪ রান করে ফিরেন এই ওপেনার।
দলীয় ৩৯ রানে বিদায় নেন দুই ওপেনার। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান জাকির ১৫ রান ও শান্ত ফেরেন ২৪ রানে। আবারও দলে সুযোগ পেয়ে তিনে ব্যাট করতে নামেন মুমিনুল। জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও বাজে ফর্ম পিছু ছাড়ছিল তার। অনেকটা অবাক করে দিয়েই চারে এসে তার সঙ্গে জুটি বাধেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
চট্টগ্রাম টেস্টে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুর সাকিব ধরে রাখেন এই ম্যাচেও। কিন্তু লাঞ্চের পর ঠিক প্রথম বলেই উমেশ যাদবের বলে মিড অফের উপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে চেতেশ্বর পূজারার হাতে ক্যাচ দেন সাকিব। ১ চার ও ১ ছয়ে ৩৯ বলে তিনি করেন ১৬ রান।
মুশফিকুর রহিমও আরও একবার ব্যর্থ বড় রান করতে। এই ব্যাটার ৪৬ বল খেলে ২৬ রান করে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো ঋষভ পন্থের হাতে। তার পর ক্রিজে এসে দারুণ করছিলেন লিটন দাস। যথারীতি খেলছিলেন মুগ্ধ হওয়ার মতো শট। কিন্তু হঠাৎই অশ্বিনের বলে মিডউইকেটে সহজ এক ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৬ বলে ২৫ রান করেন লিটন।
এরপর থেকে মুমিনুল হকের সঙ্গী হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নেতৃত্বের পর দলে জায়গাও হারিয়েছিলেন মুমিনুল, ফিরেই তিনি হাঁকিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। চা-বিরতির পর বড় জুটির ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন মুমিনুল-মিরাজ। কিন্তু দলীয় ২১৩ রানে উমেশকে কাট করতে পন্থের হাতে তালুবন্দী হন মিরাজ। এরপর ১৩ রানের ব্যবধানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে ড্রাইভ করতে গিয়ে পন্থের হাতে বল তুলে দেন মুমিনুল। ১২ চার ও ১ ছয়ে ৮৪ রান করে দলের দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন তিনি। ভারতের হয়ে চারটি করে উইকেট নেন উমেশ ও অশ্বিন। বাকি দুটি যায় ১২ বছর পর টেস্ট খেলতে নামা পেসার জয়দেভ উনাদকাটের পকেটে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২২৭/১০ (মুমিনুল ৮৪, মুশফিক ২৬, লিটন ২৫,শান্ত ২৪; উমেশ ৪/২৫, অশ্বিন ৪/৭১)
