চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ত্রিপুরা পাড়ায় এক সপ্তাহে অজ্ঞাত রোগে ৯ শিশুর মৃত্যু ও ৪৬ জন অসুস্থ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার নতুন করে আরও ১০ শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসকরা মনে করছেন, চরম পুষ্টিহীনতা ও রক্তশূন্যতায় ভুগতে থাকায় রোগ তাদেরকে অতি সহজে কাবু করে ফেলেছিলো। ফলে রোগ প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়ে শিশুগুলো মারা যায়।
সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল করিম রাশেদ জানান, বুধবার একদিনেই ৪ শিশু অজ্ঞাত রোগে মারা যাবার পর থেকে তারা সার্বক্ষনিক ঐ পাড়ার উপর নজর রাখছেন। এখানে তার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একটি টিম সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন।
ডাঃ নুরুল করিম রাশেদ বলেন, রোগটি সংক্রামক হলেও শুধুমাত্র এই জ্বরেই যে শিশুগুলো মারা যাচ্ছে আমরা তা মনে করি না। যতগুলো শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, ত্রিপুরা পাড়ার প্রায় সব শিশুই পুষ্টিহীনতা ও রক্তশূন্যতায় ভুগছে। কারো কারো হিমোগ্লোবিন মাত্র ৫%। যা অকল্পনীয়। তাদের শরীরে রক্ত নেই বললেই চলে। এসব কারণেই রোগ তাদের সহজে কাবু করে ফেলেছে।
তিনি বলেন, তারা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর গায়ে গুটির মত উঠে পরে শ্বাস কষ্টে মারা যাচ্ছে। তবে এ পাড়া থেকে গুরুতর অসুস্থসহ যেসব রোগিকে বুধ ও বৃহস্পতিবার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিলো তাদের অবস্থা উন্নতির দিকে রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোঃ জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সরকারী পর্যবেক্ষক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি সেখানে নিহত প্রত্যেক শিশুর পরিবারকে ১০ হাজার টাকা ও ১০ কেজি করে চাউল অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন।
এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সীতাকু- উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম ভূইয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রহুল আমিন। সোনাইছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।
ইউএনও নাজমুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, বুধবার থেকেই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সব রোগি যেন সুচিকিৎসা পায় সেদিকে লক্ষ রাখছি।
বৃহস্পতিবার ফৌজদারহাট হাসপাতালে আক্রান্ত রোগিদের দেখতে যান সীতাকু-ের এমপি দিদারুল আলম। তিনি রোগিদের চিকিৎসার ব্যাপারে ডাক্তার ও রোগির স্বজনদের সাথে কথা বলে তাদের শান্তনা দেন।
এদিকে ৯ শিশুর মৃত্যু ও অর্ধশতাধিক শিশু অসুস্থ হবার পর এখন সবমহলের দৃষ্টি ত্রিপুরা পাড়ায়। তবে ঐ পাড়ার সাধারণ ত্রিপুরাদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক রয়ে গেছে।
ত্রিপুরা পাড়ার সুমন ত্রিপুরা বলেন, দিন দিন আরো অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
একই দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন, মিলন ত্রিপুরাও। তিনি বলেন, এখানে এমন কোন ঘর নেই যাদের ঘরে কেউ না কেউ অসুস্থ হয়নি।
