পুলিশ সুপারের স্ত্রী হত্যা : কালো রঙের সেই মাইক্রোবাসটির খোঁজে পুলিশ!

:: একুশে প্রতিবেদক ::

Screenshot_14 copyচট্টগ্রাম: পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার সময় ঘটনাস্থলে ছিল একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস। মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায় তিন ঘাতক। মোটরসাইকেলটি চলা শুরু করার পর আরো ১০ সেকেন্ড ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকে মাইক্রোবাসটি। এরপর আস্তে আস্তে চলা শুরু করে মাইক্রোবাসটি গোলপাহাড় মোড়ের দিকে চলে যায়। কালো কাঁচের এ মাইক্রোবাসটির চালকের আসনের পাশের জানালাটা খোলা ছিল। অন্যসব জানালা বন্ধ দেখা গেছে।

সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে মাইক্রোবাসটির এমন অবস্থান দেখা গেছে। এখন ওই মাইক্রোবাসটির খোঁজে অনুসন্ধান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে একটি কালো মাইক্রোবাস অবস্থান করছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকদের ‘ব্যাকআপ’ এর জন্য ওই মাইক্রোবাসে ভারী অস্ত্র ও গ্রেনেড বহন করা হয়েছিল। কোনরকম বাধা আসলে, তা মোকাবেলা করার জন্য ওই মাইক্রোবাসটি আনা হয়েছিল। গত বছর সদরঘাটে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জেএমবি এভাবে ‘ব্যাকআপ’ রেখেছিল। সেদিন জেএমবি সদস্যদের একটি দল মোটরসাইকেল নিয়ে, আরেকটি দল মাইক্রোবাস নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল।

Screenshot_11গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া দৃশ্য পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে, মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে ঘাতকরা মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে ঘাতকরা। রোববার ৬টা ৩২ মিনিটে ছেলে মাহিরকে নিয়ে বাসা থেকে বের হন মিতু। মাত্র ৪৪ সেকেন্ডে তিনি ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছে যান। ৬টা ৩৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। প্রতিবেদনটি এখন বিশ্লেষণ করে দেখছেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে নিহত মাহমুদা খানম মিতুর স্বামী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার জঙ্গি গ্রেফতার ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ কারণে জঙ্গিরা এ হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে বলে ঘটনার শুরু থেকে ধারণা করছে পুলিশ।

Screenshot_15চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, হত্যাকান্ডের স্থিরচিত্র দেখে বোঝা যাচ্ছে খুনিরা প্রশিক্ষিত। চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি, খুনের পর ঘাতকরা গোলপাহাড় মোড় দিয়ে কাতালগঞ্জ হয়ে শুলকহর দিয়ে ঢুকে বাদুরতলা দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এই পুরো এলাকাটা জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত। এসব বিষয় সামনে রেখেই তদন্ত চলছে।