একুশে প্রতিবেদক : বেভারলি আইল্যান্ড রেস্টুরেন্ট দখল করতে জায়গার ভুয়া নথি ও কাগজ সৃজন এবং প্রকৃত মালিকের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেড লাইসেন্স তৈরির অভিযোগে চসিক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, বারকোড গ্রুপের মঞ্জুরুল হকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি (মামলা নং- ৩৫/২০২৩) দায়ের করেন ভুক্তভোগী আজিম। মামলার অপর আসামি হলেন এমইএস কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মশিউর রহমান দিদার (৪৫)। তিনি নগরের খুলশী থানাধীন আবদুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে।
মামলাটি তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ম্যানোলা হিলস্থ জায়গা নিয়ে আইসিআই লি. (বর্তমানে এসিআই ট্রেডিং লি.) ও জি কে ব্রাদার্সের মধ্যে একাধিক মামলা ও আইনি কার্যক্রম পরিচালনার পর সর্ব আদালিত জি কে ব্রাদার্সের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে রেজিস্টার্ড পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি মূলে নুরুল আজিমকে নালিশী সম্পত্তির ৪ কানি দেড় গণ্ডা দেখাশুনা, সংরক্ষণ, তত্ত্বাবধানসহ যাবতীয় দায়িত্ব অর্পণ করে জি কে ব্রাদার্স।
পাওয়ার অফ এ্যাটর্নির ক্ষমতা বলে ওই স্থানে দোকান ঘর, ভাড়া ঘর, স্বাধীন বাস কাউন্টার, মারসা বাস কাউন্টার, ফ্লোরা ফুলের দোকান, গোডাউন নির্মাণ করে সেগুলো ভাড়া দেন আজিম। এমনকি আজিমের নামেই বিদ্যুৎ মিটার, ওয়াসা মিটারও ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া খাজনা, হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে আইনত ওই জায়গার ভোগ দখলে আছেন নুরুল আজিম।
সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি (ট্রেড লাইসেন্স ও স্বাস্থ্য বিভাগের ছাড়পত্র) সাপেক্ষে তোফাজ্জল হোসেনের (আজিমের শ্যালক) নামে বেভারলি আইল্যান্ড রেস্টুরেন্টও পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি।
কিন্তু গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য চসিক’র দামপাড়া কার্যালয়ে গেলে তিনি জানতে পারেন বেভারলি আইল্যান্ড রেস্টুরেন্টের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে ওই জায়গায় বারকোড গ্রুপের মালিক মঞ্জুরুল হকের (৩নং আসামী) নামে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে।
আজিম আরও জানতে পারেন, ওই জায়গার মালিক দাবি করে কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন ও মসিউর রহমান দিদার গত বছরের ১৪ অক্টোবর মঞ্জুরুল হকের সাথে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে
দোকান (বেভারলি আইল্যান্ড রেস্টুরেন্টটির অবকাঠামো) ভাড়ার চুক্তি করেন।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১২ টায় আসামিরা ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী অস্ত্রধারী ভাড়াটিয়া মাস্তানের মাধ্যমে বেভারলি আইল্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে বারগুইজ টাউন রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয় এবং দোকানের ভিতরে ঢুকে জোরপূর্বক রেস্টুরেন্টটি দখল করে নেয়। এসময় রেস্টুরেন্টে থাকা আজিমের মূল্যবান জিনিসপত্র ও কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে গত ১৮ জানুয়ারি সেই রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন করেন বারকোড গ্রুপের মালিক মঞ্জুরুল হক।
এবিষয়ে মামলার বাদি নুরুল আজিম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন এবং মশিউর রহমান দিদার ওই জায়গার মালিক না হওয়া সত্ত্বেও বারকোড গ্রুপের মঞ্জুরুলের সাথে যোগসাজসক্রমে ভিত্তিহীনভাবে দোকান ভাড়া চুক্তি করেছে। কাউন্সিলর গিয়াস ও দিদার নকল দলিল তৈরি করে শুধুমাত্র প্রতারণারই করেনি বরং ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অথচ ওই ভাড়া চুক্তির কোনো বৈধতা নেই। কেবলমাত্র পেশিশক্তির জোরে আমার মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টটি তারা জবর দখল করেছে।’
তিনি বলেন, ‘স্ট্যান্ডার্ড রোজ ভিলা হাউজিং লিমিটেডের ছত্রছায়ায় তারা এধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তাদের ভাড়াকরা সন্ত্রাসীরা আমাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই বাধ্য হয়েই মামলাটি করেছি। আইনের প্রতি আমার অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস আছে। আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায়বিচার ছাড়া আর কিছুই চাই না।’
