এম কে মনির : ২০০৯ সালের ২৬ মে সকাল দশটা ৪৫ মিনিট। নগরের পূর্ব বাকলিয়া রাজাখালী ব্রিজ সংলগ্ন খালের দক্ষিণ পাশের একটি জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী মো. সোলায়মানের সঙ্গে কাউন্সিলর হাজী হারুণ উর রশীদের দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। ওইদিন সোলায়মান অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জায়গাটি দখল করতে যান। বাধা যে হবেন তাকেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবেন এমন পণ-প্রতীজ্ঞা। সোলায়মানের সাথে সেদিন যোগ দেন অস্ত্রধারী জামাল প্রকাশ কাউয়া জামাল, গিয়াস, মুছাসহ আরও ৮-১০ জন সন্ত্রাসী।
কাউন্সিলর হারুণকে না পেয়ে বিবদমান জমিতে কাজ করতে যাওয়া নিরীহ কয়েকজন শ্রমিকের উপর চড়াও হন সোলায়মান ও তার সহযোগীরা। হুঙ্কার দিয়ে তাদের কাছে জানতে চান জায়গাটি কার? কেন তারা সেখানে কাজ করছেন? সেদিন সোলায়মানের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন নিরপরাধ শ্রমিক মাহবুব আলম, ইকবাল হোসেন, আলমগীর হোসেন, মো. জাহেদ, হিরু ও জসিম উদ্দিন।
সোলায়মানের প্রশ্নে কাঁপা গলায় সেদিন মাহবুব জানান, তারা দিনমজুর। কাজ করে পেট চালান। পেট চালানোর দায়ে কাউন্সিলর হারুণ উর রশীদের পক্ষে তারা জমিতে কাজ করতে এসেছেন। হারুণের নাম মুখে আনতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সোলায়মান।
অহেতুক মাহবুবের সঙ্গে জড়িয়ে যান তর্কে। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সন্ত্রাসী গিয়াস মাহবুবকে সজোরে লাথি মারেন। পরে সোলায়মান তার দলের অন্যতম সদস্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জামাল প্রকাশ কাউয়া জামালকে নির্দেশ দেন মাহবুবকে গুলি করে মারতে। আর দেরি নয়, বসের (সোলায়মান) নির্দেশ। মুহূর্তেই সন্ত্রাসী জামাল কোমর থেকে পিস্তল বের করে মাহবুবের ডান চোখে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান ২৪ বছরের টগবগে যুবক, খানিক আগে সুস্থ-সবল দেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মাহবুব আলম (২৪)।
জনশ্রুতি আছে, নৃশংসভাবে মাহবুবকে হত্যার পর সেদিন সোলায়মান অস্ত্র উঁচিয়ে বাকলিয়া এলাকায় নিজের ক্ষমতা জানান দিতে দিতে স্থান ত্যাগ করেছিলেন।
কালামিয়া বাজারের স্থানীয় লোকজন জানান, সেদিন মাহবুবকে হত্যা করতে পেরে যেন একপ্রকার উল্লাসই করেছিলেন সোলায়মান। কেননা এ হত্যার মধ্য দিয়ে নিজের অস্তিত্ব জানিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে আর কেউ যেন তার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি ও প্রভাব-প্রতিপত্তিতে পাল্লা দিতে না আসে।
স্থানীয়রা জানান, মূলত সেদিন একজন নিরপরাধ, দরিদ্র শ্রমিককে নৃশংসভাবে খুনের মাধ্যমে সোলায়মান বাকলিয়ায় অবৈধ অস্ত্র ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন, যা আজও তিনি টিকিয়ে রেখেছেন।
দিনমজুর মাহবুব আলমকে হত্যার ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে। আজও সেই হত্যার বিচার পায়নি তার পরিবার। অথচ প্রকাশ্যে ঘুরছেন খুনের নির্দেশদাতা সোলায়মানসহ অন্য খুনীরা। আর বিচারের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে মাহবুবের অসহায়, দরিদ্র পরিবার।
মাহবুবের সত্তরোর্ধ্ব হতদরিদ্র বাবা হাবিবুর রহমান বাকলিয়ার রাস্তায়, অলি-গলিতে বেরুলেই ছেলের খুনীদের চেয়ে চেয়ে দেখছেন। আর চোখের জলে বুক ভিজিয়ে হতাশা, আফসোস নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
টানাপোড়েনের সংসার হাবিবুরের। শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ-জীবাণু। কাজ করে খাওয়ার শক্তি হারিয়েছেন বহু আগে। বেশিরভাগ সময় তাকে বিছানায় শয্যাশায়ী থাকতে হয়। ছেলে হত্যার বিচার না পাওয়ার শোকে, শারীরিক অক্ষমতা আর পরিবারের দৈন্যদশাকে সঙ্গী করে বর্তমানে কঠিন সময় পার করছেন তিনি। অন্যদিকে একমাত্র ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে ১৪ বছর ধরে চোখের জলে আঁচল ভেজাচ্ছেন মাহবুবের মা নছুমা খাতুন (৬৫)। সেই থেকে তার কান্না থামে না। নিরবে-নিভৃতে প্রতিদিনই কাঁদেন তিনি।
শনিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে নগরীর ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের কালামিয়া বাজারস্থ কর্ণফুলী নদীতীরে নিহত মাহবুবদের ছোট্ট ঘরে ঢুকতেই দেখা যায়, অসুস্থ শরীরে বিছানায় শুয়ে আছেন বৃদ্ধ হাবিবুর রহমান (৭৫)। প্রতিবেদকের কাছে ছেলের নাম শুনতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বিছানা থেকে নড়েচড়ে ছটপট করতে থাকেন হাবিবুর রহমান। আর বুকে হাত দিয়ে বারবার বলতে থাকেন সোলায়মান আমার ছেলেকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে। তার নির্দেশেই কাউয়া জামাল আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি মরার আগে তাদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই। এ আমার শেষ ইচ্ছা। এসময় হঠাৎই প্রবল বেগে হাবিবুর রহমানের শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। একই সময়ে মাহবুব আলমের মা নছুমা খাতুন (৬৫) ও বোন ইয়াসমিন আক্তার (৪০) মুখ লুকিয়ে শাড়ির আঁচলে চোখের জল মুচছিলেন।
নিহত মাহবুব আলমের বোন ইয়াসমিন আক্তার বলেন, একমাত্র ভাইকে হারিয়ে আমরা ৪ বোন আজ অসহায়, অভিভাবকহারা। মাহবুব আমাদের একমাত্র ভাই ছিলো। যাকে আমরা অর্থের অভাবে লেখাপড়া শেখাতে পারিনি। অল্প বয়সে পরিবারের হাল ধরেছিল। প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তুু খুনীরা নির্মমভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমাদেরকে ভাইয়ের অধিকার থেকে সারাজীবনের জন্য বঞ্চিত করা হয়েছে। আমার মা-বাবাকে করেছে জীবন্ত লাশ। আমার ভাইকে হারানোর ১৪ বছরে আমার মা অস্বাভাবিক, পাগলপ্রায়। প্রতিদিনই তার ঘুম ভেঙে যায় ছেলের কথা মনে করে। আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে। তবুও বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখতে প্রতিনিয়ত ছুটে আসতে হয়। আজ যদি ভাই থাকতো কতই যত্নে থাকতো আমার বাবা-মা। – বলেন মাহবুবের বোন ইয়াসমিন।
ইয়াসমিন আক্তার আরও বলেন, ১৪ বছর পেরুলেও আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার হয়নি। খুনীরা আমাদের চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায়। আমরা কেবল চেয়ে চেয়ে দেখি। আর ভাবি এ জীবনে বোধহয় আর ভাই হত্যার বিচার দেখা হবে না।
মাহবুবের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, আমার নিরপরাধ ছেলেকে কাউন্সিলর হারুণ উর রশীদ ও সন্ত্রাসী সোলায়মানের দ্বন্দ্বে বলীর পাঁঠা বানানো হয়েছে। তাদের স্বার্থের মাঝখানে আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। অথচ আজ হারুণ উর রশীদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর হয়েছেন। সোলায়মানও অনেক টাকা, ক্ষমতা ল্র মালিক হয়েছেন। কেবল বিচার হয়নি আমার ছেলে হত্যার।
তিনি বলেন, শুরুর বছরগুলোতে কাউন্সিলর হারুণ আমাদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন। এখন আর খোঁজ নেন না। কোনওদিন দেখতেও আসেন না।
অনিশ্চয়তায় হত্যার বিচার
মাহবুব হত্যাকাণ্ডের পর কালামিয়া বাজার এলাকার আহম্মদ সওদাগরের বাড়ির মো. শরীফ প্রকাশ মুন্সি মিয়ার ছেলে মো. সোলায়মানকে ১ নম্বর আসামী করে বাকলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার পিতা হাবিবুর রহমান। মামলার অন্য আসামীরা হলেন, পূর্ব বাকলিয়ার খালাসীর বাড়ির মৃত আমির হোসেনের ছেলে জামাল প্রকাশ কাউয়া জামাল, পূর্ব বাকলিয়ার বাকের আলী বলির বাড়ির মো. আবু ইউসুফের ছেলে মো. গিয়াস, সোলায়মানের চাচাতো ভাই কালামিয়া সওদাগরের ছেলে মো. মুছা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামীদের উপস্থিতিতে সোলায়মান জামাল প্রকাশ কাউয়া জামালকে নির্দেশ দিলে মাহবুব আলমের খুব কাছ থেকে তার ডান চোখে গুলি করে তাকে হত্যা করে জামাল।
আসামিদের মধ্যে মো. গিয়াস ছিলেন জামায়াত-শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার। প্রায় ৭ বছর আগে বিএনপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে গিয়াস মারা যান। মামলার অপর আসামি কাউয়া জামাল ওয়ারেন্ট নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। জামাল বাহরাইনে অবস্থান করছেন। অন্য দুই আসামি সোলায়মান ও তার চাচাতো ভাই মুছা বাকলিয়ায় বুক চেতিয়ে অবস্থান করছেন।
এদিকে, একমাত্র ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত মাহবুবের পরিবার। কাউন্সিলর হারুণের উপর ছেলে হত্যার বিচারের ভার ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা। ফলে তারা জানেন না মামলা সংক্রান্ত কোনও তথ্যও। এমনকি মামলাটি কোন আদালতে কী পর্যায়ে আছে তাও জানা নেই তাদের। সবসময় যার উপর ভরসা করে এসেছেন সেই ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুণ উর রশীদের দেখা নেই কয়েক বছর। পরিবারের ভাষ্য, অর্থাভাবে যেখানে সংসারের নিত্য ঘানি টানতেই হাঁফিয়ে ওঠছেন তারা, সেখানে ছেলে হত্যার মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করবেন সেই চিন্তা তাদের জন্য এখন আকাশ-কুসুম কল্পনা।
জানতে চাইলে ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুণ উর রশীদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, সেদিন আমার জায়গায় কাজ করতে এসেছিল মাহবুব, ইকবাল, আলমগীরসহ কয়েকজন। সোলায়মানের সন্ত্রাসীরা তাকে চোখে গুলি করে হত্যা করে। আমি তখন নিহতদের পরিবারকে সহযোগিতা করেছিলাম। সত্যি বলতে করোনার পর আমি নিজেও অসুস্থ। তাদের সাথে করোনার পর থেকে আর দেখা হয়নি। মাহবুব হত্যার দীর্ঘ ১৪ বছর অতিবাহিত হলো। এ মামলাটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে আছে, চার্জশীট, সাক্ষী হয়েছে কিনা? অথবা খুনীদের বিচার ত্বরান্বিত করতে কী উদ্যোগ নিয়েছেন? এমন প্রশ্নে কাউন্সিলর হারুণ উর রশীদ কিছুই জানাতে পারেননি। এমনকি জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর নামও। অথচ তার মালিকানাধীন জায়গায় কাজ করতে গিয়ে নির্মমভাবে খুন হন মাহবুব আলম।
তিনি বলেন, আসলে মামলাটি এগিয়ে নিতে তেমন কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি আমার। তারাও আর আমার কাছে আসেননি। যদি আসে তাহলে ব্যবস্থা নিব, সহযোগিতা করব। আমিও চাই খুনীদের ফাঁসি হোক। মাহবুব আলম হত্যার বিচার হোক। তার বাবা-মা বেঁচে থাকতে খুনীদের শাস্তি দেখে যাক।
এদিকে কেবল মাহবুব হত্যা নয়, সোলায়মানের বিরুদ্ধে রয়েছে বাকলিয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মানিককে গুলি করে হত্যা চেষ্টা, ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কর্ণফুলী নদীকে হুমকিতে ফেলার অভিযোগ।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতে পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মানিক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। এসময় ওই এলাকার রমজান তাকে মুঠোফোনে কল করে ডেকে পাঠালে এনাম তার সাথে দেখা করতে বের হন। সেদিন রমজানের সাথে হেঁটে হেঁটে কথা বলার সময় হঠাৎ করে রমজান এনামকে গুলি করতে উদ্যত হন। দুজনের ধস্তাধস্তিতে গুলি বুকে লাগলেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন এনাম। গুরুতর আহত অবস্থায় এনামকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি সেরে ওঠেন।
পরে আসামি রমজান পুলিশের হাতে আটক হয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছিলেন এনামুল হক মানিককে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে পিস্তলটি সরবরাহ করেছিল সোলায়মান। তবে দীর্ঘ ৫ বছরেরও অবৈধ সেই পিস্তলটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়াও ২০১২ সালে কোস্টগার্ডের হাতে সোলায়মান ৪টি বন্দুকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল। ২০২০ সালের জুলাইয়ে তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। ওই বছর তৎকালীন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে সিএমপির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আলোচনায় আসেন সোলায়মান। পরে ওই বছরের ২৭ জুলাই ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় নগরীর পার্কভিউ হাসপাতাল থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে বিতর্কিত সোলায়মানের বাকলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ নিয়েও ওঠেছে প্রশ্ন। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হত্যা, হত্যা চেষ্টা, চাঁদাবাজি, পরিবেশ হুমকিতে ফেলে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন ও অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহকারীকে থানা আওয়ামী লীগের সদস্য করায় কমিটি ও দল প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ পরিচয় ব্যহার করে সোলায়মান সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুক একুশে পত্রিকাকে বলেন, সোলায়মান এলাকার ত্রাস। অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির মানুষ। আওয়ামী রাজনীতির জন্য তার কোনও অবদান নেই। উল্টো দলে বিশৃঙ্খলা ও ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছেন তিনি। মাহবুবকে হত্যার মধ্য দিয়ে তার উত্থান। ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক মানিককেও হত্যার উদ্দেশ্য গুলি করেছিল। তার সামনে যেই বাধা হয়ে আসবে তাকেই তিনি ফেলে দেয়ার চেষ্টা করেন। মূলত দলকে পুঁজি করে সোলায়মান অস্ত্রের বাহাদুরি, বালু ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নির্বিঘ্নে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছেন। সব জায়গায় তিনি পরিচয় দিয়ে বেড়ান বাকলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সদস্য। অথচ আমার জানা মতে তিনি কোনও সদস্য নন, একবার সম্মেলনের সময় ডেলিগেট কার্ড নেওয়ার পর থেকে সদস্য পরিচয় দেয়া শুরু করেন। আর তার সঙ্গে কিছু হাইব্রিড নেতাও রয়েছে।
ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মানিক বলেন, সোলায়মান আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হয়। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাই আমি। কিন্তুু সেই আঘাতের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কেননা তার অবৈধ অস্ত্র আজও উদ্ধার হয়নি। প্রশাসনকে অনুরোধ জানাব তাকে গ্রেপ্তার করে অবৈধ সব অস্ত্র উদ্ধার করে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তাহলেই পূর্ব বাকলিয়ায় শান্তি ফিরে আসবে।
