
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দেওয়া সহায়তা কমানোর রিকল্পনা করছে জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড পোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)। আগামী মাস থেকে জনপ্রতি বরাদ্দ ১২ ডলার থেকে কমিয়ে ১০ ডলার করা হবে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএফপি৷ এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের বৃহৎ শরণার্থীদের শিবিরে খাদ্য নিরাপত্তার সংকট ও পুষ্টিহীনতা আরও ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী মহামারি অর্থনৈতিক মন্দা এবং সংকটের কারণে দাতাদের বাজেট কমিয়ে দেয়ায় আগামী মাস থেকে খাদ্য সহায়তার বরাদ্দ কমিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএফপি৷
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়৷ গণহত্যার উদ্দেশ্যে সেই দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল বলে মনে করে জাতিসংঘ৷ তার আগে থেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করছিল কয়েক লাখ রোহিঙ্গা৷ বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার, টেকনাফ ক্যাম্প ছাড়াও নোয়াখালীর ভাসানচরে বসবাস করছেন৷
আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর কাছে সাড়ে ১২ কোটি ডলারের জরুরি তহবিল চেয়ে ডব্লিউএফপি বলেছে, ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দাদের এক তৃতীয়াংশই শিশু৷ পুষ্টির অভাবে তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে৷ বেশিরভাগেরই ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম৷ এই অবস্থায় তাদের খাদ্যের জন্য জরুরি তহবিল না পেলে তার প্রভাব হবে ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী৷
বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনো ভ্যান ম্যানেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক দাতারা যদি পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শিশু এবং তাদের পরিবারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তা হবে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা এই জনগোষ্ঠীর প্রতি প্রতিশ্রুতির বরখেলা।’
জাতিসংঘের দুই বিশেষ দূত মাইকেল ফাখরি ও টম অ্যান্ড্রুজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার তহবিলে ঘাটতি হলে তার ফল হবে বিপর্যয়কর৷ তাদের ভাষায়, ‘রোজার মাসের আগে এভাবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের রেশন কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
কক্সবাজারে বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলছেন, ‘এই পর্যায়ে এসে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হলে শরণার্থীরা কাজের খোঁজে আরও মরিয়া হয়ে উঠবে৷ কখন তাদের ক্যাম্পে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।’
