অনুসরণ করে ‘দুইজন’, কিলিং মিশনে ‘চারজন’

:: একুশে প্রতিবেদক ::

Untitled-1 copyচট্টগ্রাম: পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকান্ডের ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিতুকে পেছন থেকে অনুসরণ করে দুইজন, কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয় চারজন! অথচ ঘটনার পরপর প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছিল, কিলিং মিশনে অংশ নেয় তিনজন, যার একজন পেছন থেকে অনুসরণ করে।

ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা গেছে, রোববার সকাল ৬টা ৩২ মিনিট ১২ সেকেন্ডে বাসা থেকে গলি দিয়ে বের হয়ে নগরীর ও আর নিজাম রোড়ে আসেন মাহমুদা খানম মিতু। আগে থেকে গলির পশ্চিম পাশের কোনায় বসে ছিলেন কালো পোশাকের এক যুবক। সড়কের ডান পাশ ধরে ছেলেকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মিতু। এরপর ৬টা ৩২ মিনিট ২২ সেকেন্ডে বসা থেকে উঠে মিতুর পিছে পিছে দ্রুত বেগে হাঁটা শুরু করে ওই যুবক। মিতুকে অনুসরণ করতে করতে এগিয়ে যায় সে। এরই মাঝে সড়কের বিপরীতে থাকা এক যুবক ৬টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে সড়ক পার হয়। একপর্যায়ে দুইজনই মিতুকে অনুসরণ করতে থাকে। গলির কোনায় বসে থাকা ওই যুবক ৬টা ৩২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে পেছন থেকে হেঁটে গিয়ে মিতুর কাছে পৌছে যায়। এরই মাঝে মোটরসাইকেল নিয়ে সামনাসামনি ধাক্কা দেয় মিতুকে। সড়কের বিপরীতে থাকা অনুসরণকারী অন্য যুবকটি ঘটনাস্থলে দ্রুত বেগে হেঁটে পৌছে যায় ৬টা ৩২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ৬টা ৩২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড থেকে ৫৮ সেকেন্ড সময় নেয় তারা। এরপর মোটরসাইকেলটি স্টার্ট নিতে সময় লাগে ২৫ সেকেন্ড। ৬টা ৩৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে চলা শুরু করে গোলপাহাড় মোড়ের দিকে চলে যায় মোটরসাইকেলটি।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলে চালিয়ে এসে মিতুকে সামনাসামনি ধাক্কা দেয় দুই যুবক। পালিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে যান তিনজন। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে মিতুকে পেছন থেকে অনুসরণ করেছিল দুই যুবক। সে হিসেবে ঘটনাস্থলে চারজনের অবস্থান হওয়ার কথা। কিন্তু পালানোর সময় মোটরসাইকেলে ছিল তিনজন। মাঝখানে বসা যুবকটির পোশাক ছিল কালো। সে মাহমুদা খানম মিতুর প্রথম অনুসরণকারী হতে পারে।

তদন্তে যুক্ত ওই সূত্রটি বলেন, ঘটনাস্থলের অদূরে একটি কালো মাইক্রোবাস ছিল। যেটাকে ‘ব্যাকআপ’ ফোর্স হিসেবে কাজ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনা শেষে মোটরসাইকেল নিয়ে তিনজন পালানোর সময় মাইক্রোবাসটি মরদেহের কাছে গিয়ে ১০ সেকেন্ড থামে। ওই সময়ের মধ্যেই অন্য একজন মাইক্রোবাসে উঠে যেতে পারে। সব সম্ভাবনায় আমরা খতিয়ে দেখছি।

Screenshot_15এদিকে হত্যাকান্ডে ব্যবহার হওয়া মোটরসাইকেলটি নগরীর পাঁচলাইশ থানার বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকার সাত্তার ম্যানসনের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। সড়কের পাশে রাখা মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের পর সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশ। ওই এলাকাকে নজরদারীতে রেখেছে পুলিশ। বাদুরতলা ও আশপাশের এলাকায় সন্দেহজনক কেউ বাসা ভাড়া নিয়ে অনুপস্থিত আছে কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ ইকবাল বাহার বলেন, ‘প্রথমত জঙ্গি সম্পৃক্ততার একটা বিষয় আমরা বলেছি। তারপর জামায়াত-শিবির আছে। এর বাইরে আরও যে যে অপশন আছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে হামলা হয়েছে সেটাই আগে বের করার চেষ্টা করছি। তদন্তে অগ্রগতি আছে। তবে আমরা এখনো মূল জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি, এটাই বাস্তবতা। আরও পর্যবেক্ষণ, বিচার বিশ্লেষণ করে একটা জায়গায় পৌঁছাতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুর নাম্বারে কারা এসএমএস পাঠাল, অপারেটর কোম্পানি থেকে কি এসএমএস এসেছিল, তার মোবাইল ফোনটা পাওয়া যাচ্ছেনা কেন সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেশকিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। আশা করছি খুনিদের স্পষ্ট ছবিও পেয়ে যাব।’