
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁর আনা পেনশন সংস্কার বিলের প্রতিবাদে সাধারণ ফরাসিরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। ইস্যুটি এরই মধ্যে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের জন্ম দিয়েছে দেশটিতে। এরই মধ্যে কয়েক দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়েছে বিক্ষোভকারীদের।
সবশেষ মঙ্গলবারও (২৮ মার্চ) রাজধানী প্যারিসসহ অন্যান্য শহরগুলোতে লাখও মানুষ রাস্তায় নেমে এলে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে রাস্তায় নেমেছে কমপক্ষে ৭ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ। যদিও তা বৃহস্পতিবারের তুলনায় কম। সে সময় ১০ লাখের বেশি মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে বাইরে বেরিয়ে আসে।
বিক্ষোভকে মাথায় রেখে বড় ধরণের ঝামেলা এড়াতে এদিন বন্ধ রাখা হয় আইফেল টাওয়ার ও ভার্সেলিস প্রাসাদ। কারণ গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা লুভ্যর মিউজিয়ামের প্রবেশদ্বার অবরোধ করেছিল এবং এটি প্রদর্শনী বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল।
এদিন বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভ দমনে পূর্ব প্যারিসে কাদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। এ সময় কিছু বিক্ষোভকারীকে মুখ ঢেকে, কালো পোশাক পড়ে হামলা চালাতে দেখা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুধু রাজধানী প্যারিসেই আটক করা হয়েছে ২৭ জনকে।
বিক্ষোভকারীরা প্যারিসের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন গ্যারে দে লিয়নে ট্রেন আটকে রাখে এবং তারা রেলের ওপর অবস্থান নেয়। তারা জানায়, এর আগে চোখ হারানো এর আগে বিক্ষোভে চোখ হারানো রেল কর্মীর প্রতি সংহতি জানাতে এ অবস্থান।
এ ছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নান্টেসে, বিক্ষোভকারীরাও নিরাপত্তা বাহিনীর ছোঁড়া কাঁদানে গ্যাসের জবাবে প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করে, এমনটাই জানিয়েছেন এক এএফপির সাংবাদিক। শহরের চারপাশে আবর্জনা ফেলার ব্যাঙ্কে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিয়নে বিক্ষোভকারীরা বাস স্টপে ভাঙচুর করলে পুলিশও তাদের নিবৃতি করতে জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে।
এবারের বিক্ষোভকারীরা অধিকাংশই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র। প্যারিসের সানবোর্ণ ইউনিভার্সিটির ১৯ বছর বয়সী ছাত্র জো যিগুয়েলিও এসেছেন মাখো সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে। তবে হতাশা প্রকাশ করে জো বলেন, ‘কোনো কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেন মাখোঁ আমাদের কথা শুনছেনই না।’
মাখোঁ বিরোধী বিক্ষোভকারীরা এবং বিভিন্ন অধিকার সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশের অত্যধিক শক্তিপ্রয়োগ সরকারের প্রতি ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
গত বছর নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হওয়া ম্যাক্রোঁর কাছে এই আন্দোলন একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে এবং তার দ্বিতীয় ম্যান্ডেটের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এরই মধ্যে এটির বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি চলমান বিক্ষোভের কারণে দেশটিতে নির্ধারিত সফর করেছেন ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় চার্লস।
