মহামান্য রাষ্ট্রপতির আসন্ন নির্বাচন ভাবনা


ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী : বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের অতিসম্প্রতি নির্বাচিত সর্বোচ্চ অভিভাবক মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মহোদয়। সচেতন মহলসহ দেশের আপামর জনগণ সম্যক অবগত আছেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে মো. সাহাবুদ্দিন মহোদয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সমগ্র দেশবাসীর পক্ষ হতে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নতুন মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে জানাই অজস্র অভিনন্দন। ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিসমো, কাজাকাস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, বেলারুশ প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো এবং সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালাইন বেরসেটসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ হতে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। শুভেচ্ছা বার্তায় তাঁরা বাংলাদেশের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অনুপম অভিজ্ঞতার আলোকে দেশকে নতুন উচ্চতায় সমাসীন করবেন এটিই সকলের প্রত্যাশা।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি আইন পেশা, বিচারক, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালে দৈনিক বাংলার বাণীতে সাংবাদিক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু। ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী জজ পদে যোগদান ও ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণের পূর্বে তিনি যুগ্ম জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা ও দায়রা জজ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে বহু সম্মেলন-সেমিনারে যোগদানের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। একজন সফল কলমযোদ্ধা হিসেবে উনার সুখ্যাতি সুপ্রতিষ্ঠিত। স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে নানামুখী মিথ্যা-কল্পিত-ভিত্তিহীন অভিযোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল প্রকল্প বাস্তবায়ন। এই পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে উত্থাপিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ আইনি লড়ায়ে প্রমাণিত হয় যে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোন দুর্নীতি হয়নি এবং আনীত অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া-কাল্পনিক। উল্লেখ্য, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় অন্যতম মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন তৎকালীন দুদক কমিশনার ও বর্তমান দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মহোদয়।

‘মাঙ্গলিক পদ্মা সেতু – উন্নয়নের নবদিগন্ত’ শিরোনামে নিবন্ধের লেখক সম্পাদিত ২০২১ সালে প্রকাশিত গ্রন্থে ‘জাতির ভাবমূর্তি ও কথিত পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র’ নিবন্ধে তাঁর সত্য-বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ কদর্য বিভ্রান্তি সংহারে ছিল অভিনব অবদান। উক্ত নিবন্ধে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা এবং আইন ও বিধিকে সমুন্নত রেখে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা গ্রহণে আমরা রাজি হয়েছিলাম শুধু দেশ ও জনগণের স্বার্থে। আমরা এটাও ভেবেছি যে, বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ টিম অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হলে তারা তদন্ত কার্যক্রমে দুদকের স্বচ্ছতা সম্পর্কে অবহিত হবে এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মতামত প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী লুইস মোরেনো ওকাম্পো এর নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞদের বহিরাগত প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন হংকংয়ের দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার টিমোথি টম এবং ইউকে সিরিয়াস ফ্রড অফিসের পরিচালক রিচার্ড অল্ডারম্যান। কোনো কোনো মহল থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিশেষ প্যানেলকে মোকাবিলা করা দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয় এমন সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল। তাদের এই সন্দেহ যে অমূলক ছিল তা পরবর্তীতে আমরা আমাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা দিয়ে প্রমাণ করেছি। এটি স্বীকৃত যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো ঘুষ লেনদেন হয়নি বা কোনো দুর্নীতি হয়নি। কেননা অর্থ বরাদ্দ হলেও কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি। এক্সটার্নাল প্যানেলের সঙ্গে আলোচনাকালে দুর্নীতি না হলেও দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছিল মর্মে প্যানেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। আমরা এ ‘দুর্নীতির ষড়যন্ত্র’ সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য-উপাত্ত, দালিলিক, মৌখিক এবং ঘটনাপ্রবাহ দ্বারা সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য চেয়েছিলাম। বিশ্বব্যাংকের রেফারেল রিপোর্ট অভিযোগের ভিত্তি হলেও ওই রিপোর্টে বর্ণিত বক্তব্যসমূহের সমর্থনে প্রণিধানযোগ্য পর্যাপ্ত সাক্ষ্যের অভাব ছিল।’

১ মে ২০২৩ উদযাপিত বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে অবলোকন করেছেন বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দেশের সক্ষমতার প্রতীক স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উপর নির্মিত অডিও-ভিডিও ও নানা চিত্রকর্ম। এরই আলোকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা হয়ে ওঠেছেন দৃঢ়চেতা ও নির্ভীক সাহসীকতায় দেশপ্রেমে অত্যুজ্জ্বল বিশ্বনন্দিত কিংবদন্তি উন্নয়নের সফল রাষ্ট্রনায়ক। দেশের আপামর জনগণের নিবিড় আস্থা ও বিশ্বস্ততায় ‘আমরাও পারি’ ঘোষণায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর দৃঢ় সংকল্পকে শতভাগ দৃশ্যমান করতে সক্ষম হয়েছেন। উত্তরোত্তর রেললাইন সংযোগসহ পদ্মা সেতুর উপযোগিতায় আগামী দিনের বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন অধ্যায় রচনা করবে- নিঃসন্দেহে তা বলা যায়। আত্মবিশ্বাস-আত্মমর্যাদার ভীতকে শক্তিমানতায় প্রচণ্ড প্রখর করে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উৎসাহ-অনুপ্রেরণার এই উন্মোচন প্রায়োগিক অর্থে লালসবুজ পতাকার মাতৃভূমিকে বিশ্বপরিমণ্ডলে করেছে উঁচুমাত্রিকতায় সমাসীন।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিচারকের পদে কর্তব্যরত অবস্থায় বিভিন্ন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির সদস্য ও তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যানসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ কাজে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর উপর হামলা, হত্যা, ধর্ষণ ও লুন্ঠনের ঘটনা তদন্তে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান (সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির পদমর্যাদায়) নিয়োজিত হন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত সমন্বয়কারী হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। বিচারিক কাজের পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার পদে দুই বছর কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টানার পর ২০০৬ সালে শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তিনি ২০০৮ সালে থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলন। ২০১১ সালের ১৪ মার্চ তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৬ সালে অবসরে যান। এছাড়াও তিনি জেএমসি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসাবে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ছিলেন ব্যাংকের অডিট কমিটিরও সদস্য। পরবর্তীতে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডের উপদেষ্টা পদে আসীন ছিলেন।

১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনা সদর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করা মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মহোদয় ১৯৬৬ সালে পাবনা রাধানগর মজুমদার একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি, ১৯৬৮ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৭১ সালে (১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত) বিএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে এমএসসি ও ১৯৭৫ সালে পাবনা শহীদ অ্যাডভোকেট আমিনুদ্দিন আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিভিন্ন সামাজিক-পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শুরুতে তিনি পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতি, পাবনা প্রেস ক্লাব ও অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৫ ও ৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশন এর মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রথম সাক্ষাৎ-আলাপের পরই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গোড়াপত্তন হয়েছিল।

কলেজ জীবনের পূর্বেই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি এডওয়ার্ড কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক, অবিভক্ত পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ছয় বছর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে হন জেলা যুবলীগের সভাপতি। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হলে তিনি পাবনা জেলা কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হয়েছিলেন। ১৫ আগস্ট সংঘটিত বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের পর কারাবরণ করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ২২তম জাতীয় পরিষদে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কর্ম সম্পাদন করেন। পরবর্তীতে তাঁকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রচার-প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়। অকুতোভয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক। তিনি ১৯৭১ সালে ৯ এপ্রিল ভারতে যান এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে পাবনা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরাজিত মত-বিরোধ ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের দাবি। উদ্ভূত এমন পরিস্থিতিতে নতুন মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বহুল প্রত্যাশিত। অতিসম্প্রতি মহামান্য রাষ্ট্রপতির গণমাধ্যমে দেওয়া আশাজাগানিয়া বক্তব্যে দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর মাঝে নতুন আশা সঞ্চারিত হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধ মেটাতে তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর কিছু করণীয় থাকলে তা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, ভোটকেন্দ্রে জনগণের যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেই দায়িত্ব সুচারুরূপে পালনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। সংবিধানে যে দায়িত্ব দেওয়া আছে, তা আমি যথাযথভাবে পালন করব। আমি আমার জীবনের ২৭ বছর সিনিয়র জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই দায়িত্ব একেবারে নিরপেক্ষভাবে পালন করেছি। কখনো কারও প্রতি পক্ষপাত করেছি বা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারিনি- এ ধরনের কোনো অভিযোগের সম্মুখীন কখনো হইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমার যা কিছু করার, আমি তা করব।’ তাঁর বক্তব্যসমূহ বিশ্লেষণে ধর্ম-বর্ণ-দলমত-অঞ্চল নির্বিশেষে তিনি একজন দক্ষ, যোগ্য, নিরপেক্ষ, পরিশুদ্ধ মানস হিসেবে গণতন্ত্র-উন্নয়ন ধারাকে ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্বদানে কখনো পিছপা হবেন না- জনগণের এই দৃঢ় বিশ্বাস ও আস্থা অক্ষুন্ন থাকুক। মহান স্রষ্টার দরবারে তাঁর দীর্ঘায়ু-সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা করে সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনায় আবারও মাঙ্গলিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

লেখক: শিক্ষাবিদ, সাবেক উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।