
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আরব সাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ দ্রুত শক্তি বাড়িয়ে পরিণত হয়েছে মারাত্মক প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে; ১৯০ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়ার শক্তি নিয়ে এ ঘূর্ণিবায়ুর চক্র ধেয়ে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান উপকূলের দিকে।
ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে আসায় দুই প্রতিবেশী দেশেই জারি করা হয়েছে সতর্কতা। ঝড়ের সঙ্গে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কায় উপকূলীয় এলাকায় নেওয়া হচ্ছে প্রস্তুতি।
ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার ভারতীয় সময় সকাল ৬টায় মুম্বাই থেকে ৫৮০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পাকিস্তানের করাচি থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল বিপর্যয়। শেষ ছয় ঘণ্টায় এ ঝড় এগিয়েছে ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার গতিতে।
বর্তমান গতিপথ ঠিক থাকলে ১৪ জুন সকাল পর্যন্ত ‘বিপর্যয়’ উত্তর দিকে অগ্রসর হবে। তারপর উত্তর উত্তরপূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ১৫ জুন দুপুর নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকারে গুজরাটের মান্দভি এবং পাকিস্তানের করাচির মাঝামাঝি ভারতের সৌরাষ্ট্র ও কুচ এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
উপকূলে আঘাত হানার সময় এ ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী পাঁচ দিন গুজারাটে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রঝড় হতে পারে, বিশেষ করে সৌরাষ্ট্র ও কুচ এলাকায়।
সাগর উত্তাল থাকায় গুরাজট, কেরালা, কর্ণাটক ও লক্ষাদ্বীপ অঞ্চলের জেলেদের নৌকা বা ট্রলার নিয়ে সাগরে যেতে নিষেধ করেছে ভারতের আবহাওয়া অফিস।
স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার ঢেউ এবং দমকা হাওয়ার কারণে আরব সাগরের তীরে গুজরাটের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র তিথল সৈকতে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
