নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা: উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সুদহারের সীমা প্রত্যাহার


ঢাকা : উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় ব্যাংকঋণের সুদহারের সীমা প্রত্যাহার করে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই মুদ্রানীতিতে রেপো হার বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে তুলে দেওয়া হয়েছে ব্যাংকঋণের সুদহারের সীমা।

রবিবার বেলা ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলেনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ‘মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট (এমপিএস)’ ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

গভর্নর বলেন, এবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর দেয়া হয়েছে। তাই সুদের হার নিয়ে নতুন ঘোষণা দেয়া হলো। ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদের হার সীমা তুলে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণের শত চেষ্টার পরও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা পিষ্ট। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ঋণ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে ঋণের ৯ শতাংশ সুদহার সীমা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে রেপো হার ৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে উঠবে। সেই সঙ্গে রিভার্স রেপো হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে ৪ দশমিক ২৫ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে তা হবে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বলেন, ব্যাংক ঋণে বিদ্যমান ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা তুলে দেয়া হয়েছে। সেটা যৌক্তিক পর্যায়ে নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। এতে ব্যাংকের সুদহার বেড়েছে। মুদ্রানীতিতে নতুন সুদের হার রয়েছে। আগামী ৬ মাস ঋণ প্রবাহ সতর্কতার সঙ্গে দেখা হবে। স্বাভাবিকভাবেই যা সুদহার বাড়ানোর কৌশল।

এদিকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। যার অন্যতম শর্ত সুদহার বাজারভিত্তিক করা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনেও সুদহারের সীমা প্রত্যাহার কিংবা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদহার পুরো বাজারভিত্তিক করে চাপ সামাল দেয়া কঠিন হবে। ফলে তা হচ্ছে না। নতুন এক পদ্ধতি চালু হবে। সেটা হলো ‘স্মার্ট’ তথা শর্ট টার্ম মুভিং এভারেজ রেট।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় গত বছর থেকেই রেপো হার বাড়াতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে তখন থেকেই বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদহার সীমা তুলে নেওয়ার আলোচনা হচ্ছে। এবার মুদ্রানীতি ঘোষণায় বলা হয়েছে, নীতি সুদহার বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদহার সীমাও তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সুদহার সীমার বদলে প্রতিযোগিতামূলক ও বাজারভিত্তিক সুদহার কার্যকর হবে, যদিও তার মার্জিন থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর মধ্য দিয়ে সমাজে অতিরিক্ত মুদ্রার সরবরাহে রাশ টানা হবে। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্তও কাজে আসবে বলে তারা মনে করছে।