
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সামরিক অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করার পর এবার ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিন দাবি করেছেন যে তার যোদ্ধারা পুতিন সরকারকে উৎখাত করতে চায়নি। তবে রাশিয়ার এ প্যারা মিলিটারি গ্রুপের বিদ্রোহীদের বিচারের আওতায়’ আনার শপথ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিন বলেছেন, সম্প্রতি তার অনুগত যোদ্ধারা যে বিদ্রোহ করেছে তার লক্ষ্য পুতিন সরকারকে উৎখাত করা ছিল না। সোমবার ১১ মিনিটের এক রেকর্ড করা বার্তায় প্রিগোশিন এ দাবি করেন। তিনি বলেন, মস্কো অভিমুখে ওয়াগনার গ্রুপের সদস্যদের মার্চ করার মূল লক্ষ্য ছিল বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করা, সরকার উৎখাত করা নয়। তিনি দাবি করেন, এই বিদ্রোহের আরেকটি লক্ষ্য ছিল- তার বাহিনীকে নিরস্ত্র করা থেকে রক্ষা করা।
ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান এসব দাবি করলেও রুশ সরকার ২৪ জুনের ওই ঘটনাকে বিদ্রোহ হিসেবে দেখছে। ওয়াগনারের বিদ্রোহের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই গোষ্ঠীর নেতাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলেছেন, তারা “রাশিয়াকে রক্তক্ষয়ী সহিংসতার মাধ্যমে একটি শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় দেখতে চেয়েছিলেন”।
কঠোর সমালোচনায় পূর্ণ ছোট একটি ভিডিও বার্তায় পুতিন বিদ্রোহের সংগঠকদের ‘বিচারের আওতায়’ আনার কথা জানিয়েছেন।
তবে তিনি সাধারণ ওয়াগনার যোদ্ধাদের “দেশপ্রেমিক” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তারা চাইলে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারে বা বেলারুশ যেতে পারে। এছাড়া তারা ঘরেও ফিরে যেতে পারবে।
এ সময় তিনি সরাসরি ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিনের নাম উল্লেখ করেননি।
২৪ ঘন্টার কিছু কম সময় ধরে ওয়াগনার বাহিনী তাদের বিদ্রোহী তৎপরতা অব্যাহত রাখে। শেষ পর্যন্ত বেলারুশের মধ্যস্থতায় রুশ সরকারের সঙ্গে ওয়াগনার গ্রুপের আলোচনা হয় এবং প্রিগোশিন মস্কোর পথ থেকে তার সেনাদেরকে ফিরিয়ে নেন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয় যে ওয়াগনার গ্রুপ তাদের বিদ্রোহী তৎপরতা বন্ধ করবে এবং রুশ সরকার ওয়াগনার গ্রুপের কোনো সদস্যকে বিচারের আওতায় আনবে না।
সূত্র : বিবিসি
