চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকান্ডে গ্রেফতার হওয়া আবু নছর গুন্নুতে নির্দোষ দাবি করেছে একটি মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। এমনকি গুন্নুকে গ্রেফতার করে ক্রসফায়ারে দিতে একটি পক্ষের কাছ থেকে পুলিশ ৩০ লাখ টাকা নিয়েছে বলেও অভিযোগ করে তারা।
বৃহষ্পতিবার বিকেল চারটার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হাটহাজারীর মুসাবিয়া দরবার শরীফের কার্যকরী কমিটির একাংশ। গ্রেফতার হওয়া আবু নছর গুন্ন ওই দরবার শরীফের খাদেম ছিলেন। দরবার শরিফ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের বিরোধ চলছিল। একটি পক্ষে ছেলে এক পরিবারের বড় জামাতা ছিল। আর অন্যপক্ষে ছিল ছোট জামাতা। বড় জামাতের পক্ষে ছিলেন আবু নছর।
সংবাদ সম্মেলনে হাটহাজারীর মুসাবিয়া দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মূসা আহমদুল হক ছিদ্দিকীর নাতনি খায়রুন নুর সিদ্দিকা বলেন, টাকার বিনিময়ে আবু নছর গুন্নুকে বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যার ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে পুলিশ। তাকে ক্রসফায়ারে দেয়ার জন্য পুলিশকে ৩০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু হাটহাজারী থানার ওসি ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ায় ক্রসফায়ারে দেয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে মুসাবিয়া দরবার শরীফের দুই পরিচালক খায়রুন নুর সিদ্দীকা ও শেখ তৈয়বুল্লাহ্হা সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য বলা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মুসাবিয়া দরবার শরীফ পরিবারের বড় মেয়ে শামসুন্নাহার সিদ্দিকা ও ছোট মেয়ে হামিদুন্নেছা সিদ্দিকার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মাজারের খাদেম আবু নছর বড় মেয়ে শামসুন্নাহার সিদ্দিকার অনুসারী। এ সংঘর্ষের পর মাজার এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পও রয়েছে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় আবু নছর গুন্নকে ছোট মেয়ের অনুসারীরা হুমকি দিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় খুন ডাকাতির ১০টি মামলা দিয়ে ফাঁসানো চেষ্টা করে আসছে ছোট মেয়ে শামসুন্নাহার সিদ্দিকার অনুসারীরা। তারা বিভিন্ন সময় পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর হুমকিও দিতো আবু নছরকে।
সংবাদ সম্মেলনে আর বলা হয়, ৮ জুন পুলিশের করা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় ঘটনার সময় আবু নছর জিইসি মোড় এলাকায় অবস্থান করছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গত এক সপ্তাহেও আবু নছর চট্টগ্রাম শহরে কোন কাজে আসেনি। যার প্রমাণ রয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, আবু নছর কখনোই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। গত মে মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিছ মিয়ার সমর্থনে আবু নছর কাজ করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তারা আরও বলেন, প্রতিপক্ষগোষ্ঠী আবু নছর গুন্নকে ক্রসফায়ারে দিয়ে হত্যা করতে পুলিশকে ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গুন্নুর দুই ছেলে এবং মাজার পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
