
ঢাকা : বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির উদাসীনতায় কাঁচা মরিচের মূল্যবৃদ্ধির রেকর্ড ভেঙেছে বলে মনে করে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ।
রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে আমরা লক্ষ করছি বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। এক শ্রেণির অতি মুনাফাখোর, সিন্ডিকেটকারী অসাধু ব্যক্তির হাতে চলে গেছে বাজার।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজকে যদি আদার দাম বাড়ে তো কালকে পেঁয়াজের দাম বাড়ে, আবার পরের দিন মসলার দাম বাড়ে। চাল, ডাল, দুধসহ নিত্যপণ্যের দাম প্রতিযোগিতা দিয়ে বাড়ছে। অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিযোগিতা কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সরকারের ট্যারিফ কমিশনের কোনো ভূমিকা আছে বলে আমরা দেখি না। জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর মাঝে মাঝে কিছু উদ্যোগ নিলেও সার্বিকভাবে বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কৃষি অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বাজার নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ভূমিকা আজ পর্যন্ত আমরা লক্ষ করিনি।’
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে অসাধু সিন্ডিকেটকারী ব্যবসায়ীরা বাজার জিম্মি করে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করেন মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে যেখানে কাঁচা মরিচ ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, সেই মরিচ ঈদের পর দিন ৫০০ থেকে এলাকাভেদে ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশে কোনো ভয়াবহ বন্যা নেই, এমনকি লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাতও নেই। বরং দুই দিনের বৃষ্টিতে মরিচের গাছ আরও সজীব হয়েছে এবং ফলনও বৃদ্ধি পেয়েছে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে উচ্চমূল্যের এই সুবিধা কৃষক পাচ্ছে না, পাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী এবং এক শ্রেণির অতি মুনাফাকারী। বাজারে গেলে কাঁচা মরিচের শূন্যতা লক্ষ করা যায় না, বরং আগের মতো সরবরাহ রয়েছে। চাহিদা কিছুটা বেড়েছে সত্যি, কিন্তু সরবরাহের তুলনায় সেই চাহিদা কোনো অংশে বেশি নয়।’
সাধারণ নাগরিক সমাজের এ আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা বাজার দ্রুততার সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে আনতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
