ঢাকা: ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাসিক জেলার লাসালগাঁও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম ১৫ শতাংশ কমেছে। গত সোমবার সেখানে প্রতি কুইন্টাল বা ১০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে গড়ে ১ হাজার ৮৫০ রুপি দরে, যা গত শুক্রবার ২ হাজার ২০০ রুপি ছিল।
দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য (এমইপি) বেঁধে দিচ্ছে—এ খবরেই দাম কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে দেশটির ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে।
লাসালগাঁও এশিয়ার সবচেয়ে বড় পাইকারি পেঁয়াজের বাজার। এখান থেকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি আমদানি করেন। এ বাজারে মূল্যের ওঠানামা বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব ফেলে। অবশ্য ভারত ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য বেঁধে দিলে নাসিকে দাম কমার সুফল বাংলাদেশ পাবে না। গত শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান সে দেশের কৃষিমন্ত্রীকে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য মেট্রিক টনপ্রতি ৪৫০ ডলার বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, সাপ্তাহিক ছুটির পর সোমবার লাসালগাঁও বাজার খোলার পর পেঁয়াজের দাম কমে যায়। লাসালগাঁও অ্যাগ্রিকালচারাল প্রোডাক্ট মার্কেটিং কমিটির সভাপতি জয় দত্ত হোলকার বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় কৃষকেরা পেঁয়াজের ভালো দাম পাওয়া শুরু করছিলেন। তবে রপ্তানিতে ন্যূনতম মূল্য বেঁধে দিলে এবং আমদানি হলে দাম আরও কমবে।
সম্প্রতি ভারতে পেঁয়াজের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বাজারেও দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। গত সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ আকারভেদে সর্বনিম্ন ৬০ ও সর্বোচ্চ ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা এক মাস আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ছিল। অন্যদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ মানভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল ২৫ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার টন পেঁয়াজ, যা আগের মাসের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি।
