
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণিঝড় তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই এই ঘূর্ণিঝড় তৈরি ও আছড়ে পড়তে পারে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে। যদি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় তাহলে এর নাম হবে তেজ।
ভারতের আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া বাংলা সংস্করণ এই সময় ও এবিপি।
খবরে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। যার জেরে আগামী পাঁচদিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এর জেরে বৃষ্টিপাত হতে পারে অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে।
ভারতের আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই ঘূর্ণাবর্ত ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উত্তর পশ্চিমদিকে অগ্রসর হবে। অন্ধ্র প্রদেশের দক্ষিণের জেলাগুলোতে এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব পড়বে। এই জেলাগুলোতে ভারী থেক অতিভারী বৃষ্টি হবে আগামী পাঁচদিন।
খবরে বলা হয়েছে, শুধু অন্ধ্র প্রদেশই নয়, ওডিশার উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতেও একনাগাড়ে বৃষ্টিপাত চলবে। ওড়িশার দক্ষিণের জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টি হলেও হালকা বৃষ্টি হবে অন্য জেলাগুলোতে।
ইতোমধ্যেই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ওড়িশার আটটি জেলাতে। তালিকায় রয়েছে ময়ূরভঞ্জ, কেওনঝড়, খান্দমহল, গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়, কোরাপুট এবং মালকনগিরি।
এই ঘূর্ণাবর্ত আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ৮ জুলাই শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হবে ওড়িশা এবং অন্ধ্র প্রদেশে।
চলতি বছর বর্ষা অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী ওড়িশায়। আগামী দু’দিনের মধ্যে বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
খবরে বলা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ওড়িশায় ১৭১.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি। প্রতি বছর ওড়িশায় বৃষ্টির স্বাভাবিক পরিমাণ থাকে ২৪৭.৫ মিলিমিটার। এখনও পর্যন্ত দেওঘরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সম্প্রতি আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয় আছড়ে পড়ে ভারতের গুজরাট উপকূলে। তবে আগাম ব্যাপক সতর্কতা গ্রহণ করায় এর ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকটাই মুক্তি পায় ভারত। বাংলাদেশে ঝড়টির সরাসরি কোনো প্রভাব পড়েনি।
