
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গতকাল অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন। ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রসঙ্গটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে উঠে এসেছে।
সোমবার এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে মুখপাত্র মিলার ম্যাথিউ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই।’
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে দুটি প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। প্রশ্নকারী বলেন, আন্ডার সেক্রেটারি জেয়া ফিরে আসার পর বাংলাদেশের সরকার আবার বিরোধী দলের ওপর আক্রমণে ফিরেছে। গতকালের নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্রমণের শিকার হয়েছে তিনি এখন হাসপাতালে রয়েছেন। নির্বাচনে ১০ শতাংশেরও কম ভোট পড়েছে। কীভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবেন? ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ছিল না এবং তারপরও উপ-নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি এবং প্রার্থীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?
জবাবে মিলার বলেন, ‘আমি বলব যে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সহিংসতার যেকোনো প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে, স্বচ্ছভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে এবং সহিংসতার অপরাধীদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য উৎসাহিত করি। আমি বলব, যেমনটি আমরা আগেই বলেছি, আমরা আশা করব বাংলাদেশ সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে এবং আমরা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকব।’
এর পর প্রশ্ন আসে, বুধবার রাতে নিউইয়র্কে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপির সামনে বিরোধী দলের এক কর্মী বিক্ষোভ করেন এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরে তার ভাই, মা এবং পরিবারের সদস্যরা আক্রমণের শিকার হয়। শাসক দল ফেসবুকে লাইভে বলেছে, দেশের বাইরে যারা আওয়াজ তুলছে, তাদের বাড়িতে হামলা করে জবাব দেয়া হচ্ছে। সুতরাং কেউ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কথা বলে বা সরকারি দলের সঙ্গে প্রতিবাদ বা তর্ক করে, তাহলে তারা তাদের দেশে নিরাপদ নয়। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?
এ প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, ‘আমি শুধু বলব, আবার, যে ধরনের সহিংসতা আপনি উল্লেখ করেছেন গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এর কোনো স্থান নেই।’
উল্লেখ্য, সোমবার ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে
আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ এ আরাফাত হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই উপনির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত। তিনি ২৮ হাজার ৮১৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একতারা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম) পেয়েছেন ৫ হাজার ৬০৯ ভোট। নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ।
