
চট্টগ্রাম : বাজারে কোনোভাবেই কমছে না নিত্যপণ্যের দাম। দুয়েকটি পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তা অনেক। মাঝখানে অল্প কয়েকদিন উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল থাকার পর চাল, পেঁয়াজ, সবজি, ডিম, মাছ- সবকিছুর দামই ফের ঊর্ধ্বমুখী। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে লাগামহীন মাছের দামে কপালে চিন্তার ভাঁজ ক্রেতাদের। এতদিন অনাবৃষ্টির অজুহাত দিলেও ব্যবসায়ীরা এখন অতিবৃষ্টির অজুহাতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের। তাই বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতা ও সংশ্লিষ্টরা।
প্রায় ২ বছর ধরে বাজারের উচ্চমূল্য সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভোক্তারা। গত বছরের আগস্টে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছানোর পর গত ৬ মাসে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। এর মধ্যেই দফায় দফায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট, চকবাজার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির অজুহাতে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামই বাড়তির দিকে।
এর মধ্যে গতকাল আরেক দফা দাম বেড়েছে ডিম ও মুরগির। ব্রয়লার ও কক মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা এবং ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে ডিমের দাম। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে চাল, পেঁয়াজ, রসুন ও জিরার দাম। চাহিদা বাড়ায় দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়ে ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই দিনের মধ্যে কেজিপ্রতি রসুনে দাম বেড়েছে ২৫ টাকা পর্যন্ত।
পণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি বন্ধে আইন এবং সরকারি সংস্থা রয়েছে। কিন্তু এসব আইনের শিথিল প্রয়োগ ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে পণ্যের দাম নিয়ে নিয়মিতই কারসাজি চলছে বলে মনে করছেন পণ্য বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, অসাধু ব্যবসায়ীরা বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত মুনাফা করে আসছেন। একেক সময় একেক অজুহাতে তারা বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিয়ে ভোক্তার পকেট কাটেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, দাম বাড়ানোর জন্য এখন ব্যবসায়ীদের কোনো অজুহাত লাগে না। তাদের ইচ্ছে হলেই দাম বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরাই বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পরেও সরকার কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই তারা বুঝে ফেলেছে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এজন্য তারা অনেকটাই বেপরোয়া।
তিনি বলেন, দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সমস্যাও প্রকট হচ্ছে। যার পরিণতিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরো বাড়তে পারে। তাই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সমন্বিতভাবে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, বাজার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটিগুলো দ্রুত দূর করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা কার্যক্রম বাড়িয়ে এই সংকট দূর করতে হবে।
