
ফাইল ছবি
ঢাকা : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছে গণফোরাম। ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসব দাবি জানালেন দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় তার পক্ষে দাবিগুলো তুলে ধরেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান।
ছয় দফা দাবি হলো – একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করা; গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা; নির্বাচনকে সামনে রেখে বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তি, সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে বাধা না দেওয়া; নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচনকালীন সরকার বাধ্য থাকবে; বিরোধীদলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে; নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
গণফোরামের ছয় দফার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির সামনে সংকট উত্তরণের একটি উপায়। এটি গণফোরাম বিশ্বাস করে। পথ ও মত হিসেবে গণতন্ত্রই আমাদের শেষ কথা; যেখানে ‘সকল ক্ষমতার মালিক হবে জনগণ’। অস্ত্র, অর্থ ও পেশীশক্তি নির্ভর রাজনীতির বিপরীতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটবে। নেতিবাচক রাজনীতির পরিবর্তে ইতিবাচক, সৃজনশীল ও জাতীয় সমঝোতার রাজনীতি নিশ্চিত হবে।”
গণফোরাম কেমন সরকার চায় – সে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘আমরা এমন জাতীয় সংসদ চাই, যা জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। এমন নির্বাহী বিভাগ চাই যারা জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করবে। এমন বিচার বিভাগ চাই যারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। এজন্য দরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক একটি নির্বাচিত সরকার।’
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা.মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক সংকট চলছে। ডলার সংকটের মধ্যে চাল-ডাল-তেলসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের জীবন অতীষ্ঠ। এর মধ্যেই ঋণ খেলাপিরা সরকারের টাকা লুট করে নিচ্ছে। সরকার কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ যেনতেনভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। তারা ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু গণফোরাম চায়, সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।’
গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষরিত সংবিধানে ফিরে যাওয়ার ক্ষমতা তার ও তার সরকারের নেই। বঙ্গবন্ধু যে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের কথা সংবিধানে বলেছেন, সে সংবিধানে তারা ফিরে যেতে পারবে না। আজকে রাষ্ট্র যদি সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হতো তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন, সংগ্রাম করতে হতো না।’
তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে ড. কামাল হোসেন সংবিধানের যে ড্রাফট করেছিলেন, সেখানে বলা হয়েছিল ‘ক্ষমতার মালিক জনগণ’। সে জনগণ নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করবে; সেই পথ সরকার রুদ্ধ করে দিয়েছে। এর কারণ হলো, জনগণের অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে।”
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান জাহাঙ্গীর, ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ শাহ মো. নূরউজ্জামান, দলের বর্ষীয়ান নেতা মফিজুল ইসলাম খান কামাল, যুব ফোরামের নেতা সাইফুল ইসলাম সজল প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হলে নানা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে ড. কামাল হোসেনের। নানা টানাপড়েন শেষে ১৯৯৩ সালের ২৯ আগস্ট ড.কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে নতুন রাজনৈতিক দল গণফোরাম। ওই সময় ড. কামাল হোসেন সঙ্গে পান সিপিবির সংস্কারপন্থি অংশের নেতাদের। আরও যোগ দেয় পঙ্কজ ভট্টাচার্যের ঐক্য ন্যাপ, শাহজাহান সিরাজের নেতৃত্বে জাসদের একটি অংশ।
