প্যারাসিটামল ঘুম কেড়েছে ব্রিটেনের প্রশাসনের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জ্বর হোক বা মাথা ব্যথা। সাধারণ মানুষ ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ফার্মেসি থেকে কেনেন প্যারাসিটামল। এই ওষুধ কিনতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এই ওষুধই ঘুম কেড়েছে ব্রিটেনের প্রশাসনের।

সূত্রের বরাত দিয়ে ইয়াহু নিউজের খবরে বলা হয়েছে, আত্মহত্যার জন্য ব্রিটিশরা হাতিয়ার বানিয়েছেন প্যারাসিটামলকে। শরীরে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে মৃত্যুকে বেছে নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে এই ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ ড্রাগটি। তাই এবার প্যারাসিটামলের বিক্রিতে কড়াকড়ি করছে ব্রিটিশ সরকার।

কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের ২০১৮ সালের একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, প্যারাসিটামল যুক্তরাজ্যে নিজের শরীরে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে আত্মহত্যার জন্য সর্বাধিক ব্যবহার হওয়া ওষুধের একটি। এর ওভারডোজে যকৃত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়, ফলে মৃত্যু হওয়া বিচিত্র নয়। আত্মহত্যার জন্য ব্রিটেনের বাচ্চা থেকে বুড়ো পর্যন্ত অজস্র মানুষ নাকি এই পদ্ধতিই বেছে নিচ্ছেন।

এই সমীক্ষাটি করা হয়েছিল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৮০ জন রোগীর থেকে পাওয়া এবং হাসপাতালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। এই রোগীদের অবসাদ, আত্মহত্যার প্রবণতা, অক্সফোর্ড মনিটরিং সিস্টেম ফর অ্যাটেম্পটেড সুইসাইডের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য এবং লিভার ফাংশন পরীক্ষার ফলাফল- এসবই সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাতেই এমন অবাক করা তথ্য উঠে আসে।

এমন ঘটনা মোকাবেলা করতে প্যারাসিটামল ওষুধের সহজলভ্যতা কম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কৌশলের অংশ হিসাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে স্কুল এবং কলেজগুলোতে আত্মহত্যার নতুন পদ্ধতিগুলোকে বিশেষভাবে নজরে আনার জন্য একটি জাতীয় সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবও আনা হয়েছে এই নীতিতে। আত্মহত্যা রোধে যুক্তরাজ্যে শেষবার এমন নীতি আনা হয়েছিল ১০ বছর আগে।

এই নীতিতে বলা হয়েছে, প্যারাসিটামলের সহজলভ্যতা কমিয়ে আনার মাধ্যমে আত্মহত্যা রোধ করা সম্ভব কিনা, সে ব্যাপারে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, বর্তমানে ব্রিটেনের নাগরিকরা সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিগ্রামের ১৬টি ট্যাবলেট কিনতে পারেন কোনও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই। কিন্তু সরকার মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সিকে এই ঊর্ধ্বসীমাটিকে আরও কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা আড়াই বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডে আত্মহত্যার হার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে প্যারাসিটামল বিক্রিতে লাগাম টেনে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।