‘জনগণ ও বিশ্ব বিবেক ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, সেলফি তুলে লাভ হবে না’


ঢাকা : সংবিধানের দোহাই দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ভোট চুরির প্রকল্প চালু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সংবিধানের নামে সরকার ভোট চুরি প্রকল্পের মাধ্যমে একটি রেজিম তৈরি করেছে। তবে এর বিরুদ্ধে জনগণ ও বিশ্ব বিবেক ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সেলফি-টেলফি তুলে কোনো লাভ হবে না।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের আয়োজনে ‘১/১১ ষড়যন্ত্র, আজকের প্রেক্ষাপট: দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বাংলাদেশের গণতন্ত্র” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এক-এগারোর মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে আঘাত করা হয়েছে। সংবিধানের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, সংবিধান মানুষের চিন্তার প্রতিফলন। কিন্তু আজকে যারা সংবিধানের কথা বলছে, তারা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনের কথা বলছে না। তারা ভোট চুরির একটা প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা একটা রেজিম তৈরি করেছে। লুটেরা ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, বিচারক, আমলা ও গুটিকয়েক পুলিশ সদস্য মিলে দেশটাকে দখল করে বসে আছে। নির্বাচন হয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। রেজিমের বিরুদ্ধে নির্বাচন হয় না, তাও তাদের অধীনে।

নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, যতবার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে তখনই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। তাই একটি জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু এই ফ্যাসিস্ট সরকার আদলতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তা সংবিধান থেকে বাতিল করেছে। সংবিধান পরিবর্তনের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়েছে আদালতের মাধ্যমে। আদালতের এই এখতিয়ার নেই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই।

সরকারের পতন অনিবার্য উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের আন্দোলন সরকার নয়, একটি ফ্যাসিস্ট রেজিমের বিরুদ্ধে। তারা রাস্তায় অস্ত্র নিয়ে নামে। পুলিশ-র‍্যাবের একটা অংশ, সরকারিদলের কর্মীরা মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে হামলে পড়ে৷ কিন্তু তারা সফল হবে না। কারণ আজ জনগণ ঐক্যবদ্ধ। জাতির পাশাপাশি বিশ্ব বিবেক আজ বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই সেলফি-টেলফি তুলে কাজ হবে না। এগুলো তাদের ডেসপারেশনের ফল। এগুলো লজ্জাজনক ব্যাপার। এগুলো তারা করছে ভয় থেকে। যত মাথা খারাপ হবে তারা ততো উল্টোপাল্টা কাজ করবে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, গত ১৪ বছরে এই সরকার দেড় লাখ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে লুটপাট করেছে। এই লুটপাট দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না, জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে হবে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আইসিইউতে। গতকাল ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম পিটিআই এ মন্তব্য করেছে।

নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সরকারের ব্যর্থতায় ডেঙ্গু যেমন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, আদালত পাড়াতেও মামলার একই অবস্থা। ডেঙ্গু রোগীরা যেমন হাসপাতালে ভীড় করছে, তেমনই বিএনপি নেতাকর্মীদের আদালতের বারান্দায় ঘুরপাক খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার সারাদিন আমেরিকাকে গালিগালাজ করছে আর রাতের বেলা মার্কিন এম্বাসিতে গিয়ে বৈঠক করছে এবং ক্ষমা চাচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, যে আদালত বেগম জিয়াকে বিনা অপরাধে সাজা দিয়েছে। সেই বিচারক বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই থাকুক না কেন তার বিচার করা হবে। তিনি মারা গেলে তার লাশ কবর থেকে তুলে জনতার আদালতে বিচার করা হবে। আদালত তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, আদালতের রায় মেনে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয় না। আমরা তার বক্তব্য প্রচার করে যাব। কতজনের মুখ বন্ধ করবেন।

এ সময় তিনি আক্টোবরের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটানোর প্রত্যয় জানান।

বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ করেন ফোরামের সহকারী মহাসচিব রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, আকরামুল হাসান, এডভোকেট শেখ ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক ছাত্র নেতা শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকী, শুকুর মাহমুদ ববী প্রমুখ।