বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় একুশে পত্রিকার সাংবাদিকের জামিন

প্রকাশিতঃ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ২:২১ অপরাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় জামিন পেলেন একুশে পত্রিকার লোহাগাড়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।

রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিক আলাউদ্দিন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক জহিরুল কবির জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত৷

একুশে পত্রিকার সাংবাদিক আলাউদ্দিনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়া উদ্দিন, অ্যাডভোকেট এহসানুল হক, অ্যাডভোকেট মো. এরফান, অ্যাডভোকেট রিদুয়ানুল করিম, অ্যাডভোকেট জিনাত, অ্যাডভোকেট আব্বাস আলী খান, অ্যাডভোকেট দিদার ও অ্যাডভোকেট জাহেদসহ ডজনখানেক আইনজীবী।

জানা যায়, ২০২২ সালের ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় কলাউজান ইউনিয়নের হিন্দুর হাটে ‘শাহপীর অয়েল এজেন্সি’ নামে একটি তেলের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি করেন দুই ব্যক্তি। চাঁদাবাজির বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জনতা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে তারা ভবিষ্যতে আর চাঁদাবাজি করবেন না মর্মে মুচলেকা দেন এবং চাঁদাবাজির টাকা ফেরত দেন।

এ ঘটনার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ ও তা ফেসবুকে শেয়ার করেন এরশাদ হোসাইন ও আলাউদ্দিনসহ স্থানীয় সাংবাদিকেরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে এরশাদ হোসাইন ও আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

পরে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটকে তদন্তের আদেশ দেন। তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সিরাজুল মোস্তফা। এতে উল্লেখ করা হয়, ১ নং বিবাদী এরশাদ হোসাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে ২নং বিবাদী আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

এরপর আজ জামিন শুনানিতে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, মামলার বাদী ও ১নং সাক্ষী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের ভয় দেখিয়ে লােহাগাড়ার কলাউজানের ব্যবসায়ী রনি মল্লিকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। এটা জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা বাদী ও মামলার ১নং সাক্ষীকে বেঁধে রাখে। পরে স্থানীয় জনতা তাদেরকে পুলিশের কাছে সােপর্দ করতে চাইলে তারা টাকা ফেরত দেয় ও ভবিষ্যতে এই ধরণের কর্মকাণ্ড করবেন না বলে অঙ্গীকারনামা দেন। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ ও ফেসবুকে শেয়ার করে সাংবাদিকরা জনস্বার্থে সবাইকে সতর্ক করতে চেয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়া উদ্দিন বলেন, শুনানি নিয়ে আদালত একুশে পত্রিকার সাংবাদিকের জামিন মঞ্জুর করেন।