
ঢাকা : চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অনলাইন গেমিং ও বেটিং সংশ্লিষ্ট ৩৭১টি, অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং সংশ্লিষ্ট ৯১টি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট ৪১৩টি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সেই সঙ্গে অনলাইন জুয়া ও হুন্ডির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ব্যক্তিগত হিসাব স্থগিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহের মধ্যে রয়েছে ২১টি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান ও এদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩৯টি হিসাব। পাশাপাশি অবৈধ হুন্ডি, গেমিং, বেটিং, ক্রিপ্টো সংক্রান্ত সর্বমোট ৮১৪টি ওয়েবসাইট, ১৫৯টি অ্যাপ এবং ৪৪২টি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ও লিংক (ফেসবুক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রাম) চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে সিআইডিসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে এসব হিসাব ও তথ্য এবং অনলাইন লিংকগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের সমসাময়িক ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় এসব তথ্য জানিয়েছে বিএফআইইউ। ব্যাংকগুলোর প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা ও উপপ্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ সভা হয়। সভায় এসব আর্থিক অপরাধের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, যাদের পরিপালন ব্যবস্থায় দুর্বলতা পরিলক্ষিত হবে, তাদের বিষয়েই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোনো আর্থিক অপরাধের সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ব্যক্তি পর্যায়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করে বিএফআইইউর প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস। এ সময় বিএফআইইউ উপপ্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলাম, পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. আরিফুজ্জামানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ গ্রহণ করে বা নন-ফান্ডেড সুবিধাকে ফান্ডেড সুবিধায় রূপান্তর ও ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে বিদেশে অর্থ পাচারসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার, অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং (অনলাইনে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসা), গেমিং, বেটিং, ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন সমসাময়িক ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া ওয়েজ আর্নাররা যাতে ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান, সে বিষয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা বাড়ানোরও তাগিদ দেন।
বিএফআইইউর প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস বলেন, দুষ্কৃতকারী ও অর্থ পাচারকারীরা যাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে কোনো অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিএফআইইউ আর্থিক অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের পরিপালন ব্যবস্থায় দুর্বলতা পরিলক্ষিত হবে, তাদের বিষয়েই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোনো আর্থিক অপরাধের সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ব্যক্তি পর্যায়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় ব্যাংকগুলোকে আগামীতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে নগদ লেনদেন পর্যালোচনার করার পরামর্শ প্রদান করা হয়। কোনো অপরাধী কর্তৃক অসৎ উদ্দেশ্যে, জঙ্গি বা সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নে ব্যাংক যাতে ব্যবহৃত হতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোসহ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভায় আরও বলা হয়, সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোয় কার্যরত ব্যাংকের শাখাগুলোর গ্রাহকদের লেনদেন পর্যালোচনা জোরদার করতে হবে। কোনো অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে বিএফআইইউকে অবহিত করতে হবে। যেসব ব্যাংক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রদান করে, তাদের অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
