
চট্টগ্রাম : অর্ধযুগ ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ দিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা জানান, হলে আসন বরাদ্দ দিলে ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে একটা চাপ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটা নিতে চায় না বলে দীর্ঘদিন ধরে আসন বরাদ্দ দিচ্ছে না।
জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৭ সালের জুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ দেয় তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর প্রশাসন। ২০১৭ সালের পর ২০১৯ সালের মার্চে হলগুলোতে পুনরায় আসন বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দিলে আবেদন ফরম কেনেন প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তিন মাস পরে তৎকালীন উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হলে উপাচার্যের দায়িত্ব পান অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।
সর্বশেষ গত ৫ বছরে ৬ বার বরাদ্দ দেওয়ায় প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে একবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনের গাফিলতিতে তা ভেস্তে যায়।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি একবার বহিরাগত ও অছাত্রদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল, ১৫ দিনের মধ্যে অছাত্ররা হল ছাড়লে পরে আসন বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিন্তু পরে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, কিন্তু তিনদিনেও সে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। একজন অছাত্রও হল ছাড়েননি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, চবিতে মোট আবাসিক হল আছে ১২টি। এর মধ্যে ৫টি ছাত্রীদের, ৭টি ছাত্রদের। ছাত্র হলগুলোর মধ্যে শাহ আমানত হলে ৬৩২টি, শহীদ আব্দুর রব হলে ৫০৯টি, শাহজালাল হলে ৪৭৫টি, সোহরাওয়ার্দী হলে ৩৭৫টি, আলাওল হলে ২৬০টি, এ এফ রহমান হলে ২৫৭টি ও মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ১৭৬টি আসন রয়েছে। সব মিলিয়ে ছাত্রদের আসন ২৭০২টি। ছাত্রদের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও অতীশ দীপঙ্কর হল নির্মাণাধীন।
ছাত্রী হলগুলোর মধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা হলে ৭৫০টি, প্রীতিলতা হলে ৫৩১টি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে ৫০৮টি, শামসুন নাহার হলে ৪৮১টি, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে (আংশিক) ৩৯টি আসন রয়েছে।
ছয় বছর পর আগামী মাসে নতুন করে শিক্ষার্থীদের হলে সিট বরাদ্দ হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুরুল আজিম শিকদার। তিনি বলেন, করোনার কারণে বিগত সময়ে আসন বরাদ্দের কথা থাকলেও দেয়া সম্ভব হয়নি। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে যারা ২০২০ এবং ২০২২ সালে হলে আসনের জন্য আবেদন করেছে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের প্রভোস্ট আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদুল আলম বলেন, খুব দ্রুত প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হলে নতুন আসনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে বরাদ্দপ্রাপ্তদের বাহিরের কেউ হলে থাকতে পারবে না। থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
