
ঢাকা : তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের সাজার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এই মামলায় তাদের দুই বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। তবে বিচারক আইনের বাইরে গিয়ে এত কম সাজা দিয়েছেন এমন যুক্তি তুলে ধরে তা বাড়ানোর আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এই আবেদন করলেও বিষয়ট জানাজানি হয় শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর)
জানা গেছে, দুজনের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে করা এই আবেদনের শুনানি হবে নিয়মিত বেঞ্চে।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এই মামলায় সর্বনিম্ন সাজা সাত বছর। বিচারক আদিলুর ও এলানের রায়ে লিখেন- তাদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধ সংঘটনের রেকর্ড নেই, যা পুলিশের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাদের সামাজিক অবস্থান রয়েছে। এছাড়া মামলার প্রতিটি ধার্য দিনে তারা আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তাদের কম সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিবেচনা করা হলো। পরে আদালত তাদের দুই বছরের সাজা দেন। সেই সাজা বাড়ানোর আবেদন করল রাষ্ট্রপক্ষ।
এদিকে আদিলুরের আইনজীবী রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, তারা ৮ অক্টোবর আদিলুর ও এলানের আপিল অ্যাডমিশনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করবেন। সেখানেই জামিন আবেদনটিও উপস্থাপন করা হবে।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার এই মামলায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিনকে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে রায় দেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত। সেই সঙ্গে আসামিদের ১০ হাজার টাকা করেও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওইদিন রায় ঘোষণার পর আদিলুর রহমান খান ও এ এস এম নাসির উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়ে ২০১৩ সালের ১০ জুন মানবাধিকার সংস্থা অধিকার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ৬১ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়ে অসত্য ও বিকৃত তথ্য প্রচারের অভিযোগে আদিলুর রহমান খান ও নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
