
ঢাকা : বিএনপি-জামায়াতের সরকারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচিতে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমা মারার ঘটনা বাড়ছে। সেই ২০১৪-১৫ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তিই যেন চলছে। হরতাল ও অবরোধে ঝটিকা হামলা এবং চোরাগুপ্তা স্টাইলে আগুন দেয়া হচ্ছে যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায়।
এর আগে ২৯ অক্টোবরের হরতাল, তার পরের তিন দিনের অবরোধ ও সবশেষ ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের প্রথমদিন গতকাল রবিবার পর্যন্ত সব মিলিয়ে অন্তত ৪০টি যানবাহনে আগুন দেয়া হয়েছে। এর আগে ২৮ অক্টোবর যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে- তাতে এসবকাণ্ডে সেই পুরনোরাই নতুন করে মাঠে নেমেছে। যাদের অনেকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জামিনে ছাড়া পেয়ে সক্রিয় হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কদর বেড়েছে বোমা কারিগর ও বোমাবাজদের। তদন্তে নেমে এমন অনেকের নামও পেয়েছে পুলিশ। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে এসব অপকর্মে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ধৃতদের মধ্যে পুরান ঢাকার চকবাজার থেকে ৮ কেজি গানপাউডার ও বোমাসহ বিএনপির তিনজন, মতিঝিল ও মুগদায় বাসে আগুন দেয়ার সময় দুজন, বরিশালে বাবুল নামে একজন, কুষ্টিয়ায় মিলন হোসেন নামে একজন, মেহেরপুরের গাংনীতে শরিফুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সহিংসতা, নাশকতা, পুলিশকে মারধর, পুলিশ সদস্য হত্যা ও চলমান অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ নানা ঘটনায় ঢাকায় এ পর্যন্ত ৮৯টি মামলা হয়েছে। গত শনিবার পর্যন্ত আট দিনে দায়ের হওয়া এসব মামলায় বিএনপির ২ হাজার ১৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অবরোধ ডেকে প্রকাশ্যে না থেকে যানবাহনে হামলা ও বোমা নিক্ষেপ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত পুরনো কায়দায় বোমাবাজ ও সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছে। তারা রাস্তায় নেমে যানবাহন ভাঙচুর করছে, আগুন দিচ্ছে, বোমা মারছে। এসব করে তারা পার পাবে না উল্লেখ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অস্ত্রবাজ, বোমাবাজদের চিহ্নিত করে ধরার চেষ্টা করছে। এসব করে তারা কেউ পার পাবে না। উল্টো বিপদে পড়বে।
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. হাসান মাহমুদ খন্দকার এ প্রসঙ্গে বলেন, আপাত দৃষ্টিতে অবরোধ কর্মসূচির ধারাবাহিক অংশ হিসেবেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে মনে হচ্ছে। তবে মূল কথা হচ্ছে, বিষয়গুলো ফৌজদারি অপরাধ। যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়ার মতো অমানবিক ঘটনা আর হতে পারে না। মনে হচ্ছে ২০১৩-১৪-১৫ সালের মতো ঘটনা ঘটানোর পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। তবে যারা এসব করছে- তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে আরো সচেতন হতে হবে। অবরোধ যারা ডাক দিয়েছেন তারাও এসবের দায় এড়াতে পারেন না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যারা জনগণের জানমাল ও সরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগাচ্ছে, তাদের অনেকের নাম আমরা পেয়ে গেছি। ছবি পেয়েছি। তারা বাংলাদেশের যেখানেই থাকুক না কেন, আমরা অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
তিনি বলেন, একটি মানুষের শেষ সম্বল একটি বাস। যাত্রী পরিবহন করে তার সংসার চলে। তার একমাত্র অবলম্বন যদি রাত ৩টা, দেড়টার সময় তারা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলে, তার লাইফটাই তো শেষ হয়ে যাবে। আমি মনে করি, এটা গর্হিত কাজ। মানুষের জানমালের ওপর আঘাত করা, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা, ককটেল নিক্ষেপ করা, এসব কাজ যারা করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। তিনি বলেন, পুরনোরাই আবার নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরো অনেকে যোগ হয়েছে। এদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
