চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টেকার লড়াই বাংলাদেশের


খেলাধুলা ডেস্ক : বিশ্বকাপে নিজেদের শেষম্যাচে আজ পুনেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। আট ম্যাচে দুই জয়ে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার আট নম্বরে রয়েছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে শেষ ম্যাচে জিততে হবে টাইগারদের, নতুবা পরতে হবে রানরেটের মারপ্যাচে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে।

এদিকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া কোচ অ্যালান ডোনাল্ড আজই শেষবারের মতো ডাগআউটে দাঁড়াচ্ছেন। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে সকাল ১১টায়। ধর্মশালায় আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ওই জয়ের পরই পথ হারায় তারা। টানা ছয় ম্যাচ হেরে সেমিফাইনালে দৌড় থেকে ছিটকে পড়ে টাইগাররা। অষ্টম ম্যাচে এসে অবশেষে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পায় হাথুরুর শিষ্যরা।

শ্রীলঙ্কাকে বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আশা বাঁচিয়ে রাখে টাইগাররা। টাইগারদের প্রধান লক্ষ্য এখন ২০২৫ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখা। আগের ম্যাচে বাঁ হাতের আঙুলের তর্জনীতে চিড় ধরায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না সাকিব। পরে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলের জয়ের জন্য ভাঙা আঙুল নিয়েই ব্যাট করেছেন এই অলরাউন্ডার।

সাকিবকে ছাড়া একাদশ সাজানো কতটা কঠিন, সেই প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘যখন আপনার কাছে সাকিবের মতো ক্রিকেটার থাকবে, এক নম্বর অলরাউন্ডার, একজন ক্রিকেটার দুজনের কাজ করে, তাকে ছাড়া নতুন কম্বিনেশনে খেলা কঠিন। সাকিব না থাকায় বোলিংয়ে যে শূন্যতা তৈরি হবে, সেটা একজন স্পিনার কিংবা একজন পেসার দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করব। ব্যাটিংয়ে সাকিবকে মিস করতে যাচ্ছি, তার নেতৃত্বও। সুতরাং এটা কঠিন।’

সাকিবের অনুপস্থিতিতে অধিনায়ক হিসেবে দেখা যাবে সহঅধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্তকে। পুরো বিশ্বকাপেই বাংলাদেশ হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে। ৮ ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত জিতেছে মাত্র দুই ম্যাচে। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচও মনে করছেন প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে দল, ‘এমন পারফরম্যান্স হতাশার। আমরা প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারিনি।’

সাকিবকে ছাড়াই আজ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। সাকিবের বদলি হিসেবে নেয়া হয়েছে এনামুল হককে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা করে নিতে টাইগারদের সমীকরণটা খুব একটা জটিল নয়। বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার নবম স্থানে শ্রীলঙ্কা। এক ম্যাচ কম খেলে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে তাদের ওপরেই রয়েছে টাইগাররা।

বাংলাদেশের মতো ৮ ম্যাচ খেলে ৪ পয়েন্ট রয়েছে ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডেরও। তাদের অবস্থান যথাক্রমে সপ্তম এবং দশম। প্রথম ছয়টি দল নিশ্চিত হয়ে গেলেও শেষ দুটি স্থানের জন্য লড়াই করছে এই চার দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর শ্রীলঙ্কার নেট রানরেট হয়েছে (-১.৪১৯)। এক ম্যাচ কম খেলা বাংলাদেশের নেট রানরেট (-১.১৪২)। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থাকা নেদারল্যান্ডসের নেট রানরেট (-১.৪৯৯) এবং ইংল্যান্ডের (-১.০৯০)। এমন অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলেই কোন হিসাব-নিকাশ ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিশ্চিত করবে।

তবে হেরে গেলেও থাকবে সুযোগ। অজিদের বিপক্ষে পরাজয়ের ব্যবধান রাখতে হবে কম। বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাট করে ২০০ রান করে, সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিং করতে হবে অন্তত ২৩ ওভার পর্যন্ত। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া যদি আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৬০ রান করে। তবে বাংলাদেশকে কমপক্ষে ২০০ রান করতে হবে নেট রানরেটে শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে থাকার জন্য। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস যেন ভারতকে বিশাল ব্যবধানে না হারায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। অবশ্য টানা আট জয়ে ঘরের মাঠে শীর্ষে থাকা ভারতের বিপক্ষে তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

সর্বশেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গেøন ম্যাক্সওয়েলের দারুণ ইনিংসের সুবাদে ৩ উইকেটের দুর্দান্ত জয়ে সেমির টিকেট পায় অজিরা। ম্যাক্সওয়েলসহ প্রথম সারির বেশ কিছু খেলোয়াড়কে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্রাম দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড খুব বেশি ভালো নয়। দুদলের ২১ ম্যাচের লড়াইয়ে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র একটিতে।

২০০৫ সালে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের নান্দনিক সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে চারবারের দেখায় বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনবার জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ওই বিশ্বকাপের ফলাফল এখনো বাংলাদেশের জন্য সেরা আসর হয়ে আছে।