চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার এই দুইজনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করার পর শুনানি শেষে সাতদিন মঞ্জুর করেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুন-অর-রশিদ।
রিমান্ডে নেয়া দুইজন হলেন- সাবেক ‘শিবির কর্মী’ আবু নছর গুন্নু (৪০) ও সন্দেহভাজন যুবক জামান ওরফে রবিন (২৮)। এরমধ্যে আবু নছরকে ঘটনাস্থলের থাকা মোবাইল ট্র্যাকিং করে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে নানা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রবিনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে, ঘটনায় তার জড়িত থাকার সম্ভাবনা ৭০ ভাগ।
চট্টগ্রাম মহানগর পিপি মোঃ ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, গ্রেফতার দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথকভাবে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার মোঃ কামরুজ্জামান। শুনানি শেষে রোববার বিকেল ৩টার দিকে আদালত সাত দিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় যাওয়ার সময় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত ৭ জুন হাটহাজারীর মূসাবিয়া দরবার শরীফ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু নছর গুন্নুকে আটক করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর গুন্নুকে সাবেক শিবির কর্মী পরিচয় দিয়ে, ঘটনায় তার জড়িত থাকার সম্ভাবনার কথা জানায় পুলিশ। তবে গুন্নুকে আটকের পর মূসাবিয়া দরবারের পরিচালনা কমিটির একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছে, পুলিশ ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে মিতু হত্যায় ফাঁসিয়েছে। অন্যদিকে শাহ জামমান রবিনকে ১১ জুন রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শীতলঝর্ণা আবাসিক এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। তাকে মূল খুনি হিসেবে সন্দেহ করছেন কর্মকর্তারা। এই দুই আসামিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার রহস্য উৎঘাটন হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
