বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

যেসব কারণে রাঙ্গুনিয়ায় ড. হাছান মাহমুদের বিকল্প নেই

প্রকাশিতঃ ২৪ নভেম্বর ২০২৩ | ১১:৪০ পূর্বাহ্ন

আবছার রাফি : এক সময়ের উন্নয়নবঞ্চিত, বিচ্ছিন্ন জনপদ এখন উন্নয়নে মোড়ানো এক সমৃদ্ধ-আলোকজ্জ্বল জনপদ। উন্নয়নের সমুজ্জ্বলতায় যেখানে বদলে গেছে মানুষের জীবনমান, পাদপ্রদীপের আলোয় ভাসছে শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতে ভরপুর উন্নতির জীবন্ত আলেখ্য ‘রাঙ্গুনিয়ার মানচিত্র’। রাঙ্গুনিয়াকে যেভাবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা নিয়ে বিস্ময় জাগানিয়া আলাপ চলছে সর্বত্র। ফলে রাঙ্গুনিয়ায় কী হয়েছে সে প্রশ্ন ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে-রাঙ্গুনিয়ায় কী হয়নি।

তবে এই সমৃদ্ধ রাঙ্গুনিয়ার ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়, মাত্র সাড়ে ১৪ বছরের। ২০০৮ সাল পূর্ববর্তী এই উপজেলার অরাজক-বিতিকিচ্চিরি পরিস্থিতির কথা ভাবতে গেলে এখনও অনেকের গা শিউরে ওঠে। উঠারই কথা। অনেকে এমন পরিস্থিতির কথা স্বপ্নেও ভাবতে চান না। কারণ আবহমান কাল থেকে এখানে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক হৃদ্যতাপূর্ণ সহাবস্থানের মূলে কুঠারাঘাত করে শান্তপ্রিয়-ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে বিভেদ তৈরি করেছিল ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি, দুঃশাসন; যা শনৈঃ শনৈঃ বাড়িয়ে তোলে ঘৃণ্য শোষণ আর আস্ফালন।

এমন জান্তব শাসন-শোষণে নাভিশ্বাস উঠে এখানকার জনমানুষের। কুল-কিনারাহীন নদীতে অদক্ষ মাঝির নেতৃত্বে থাকা অসহায়-নিষ্প্রাণ যাত্রীদের মতো বিক্ষিপ্ত-উদভ্রান্ত হয়ে উঠে মানুষের মনপ্রাণ; যারপরনাই অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠে একজন ‘পাঞ্জেরীর’। যার সঞ্জীবনী, সপ্রতিভ ও সুদক্ষ-চৌকস নেতৃত্বে দুঃখ-দুর্দশা ঘুচে রাঙ্গুনিয়ায় ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া শান্তি-ঐতিহ্য।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। উদ্বাহু হস্তে ‘আমি রাঙ্গুনিয়ার—রাঙ্গুনিয়া আমার’ স্লোগানে আধুনিক রাঙ্গুনিয়া বিনির্মাণের ডাক দেন একজন ড. হাছান মাহমুদ। তাঁর উচ্চমার্গীয় ভাষণ ও যুগোপযোগী প্রতিশ্রুতিতে খড়কুটোর মতো উড়ে যেতে থেকে হোমড়া-চোমড়া ভাব নেওয়া স্বার্থন্বেষী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এক কথায়, ড. হাছান মাহমুদের অসাম্প্রদায়িক শব্দস্রোতে দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া ‘সম্প্রীতি’ ফিরে পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় রাঙ্গুনিয়ায়। ধীরে ধীরে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসেন তিনি। কেউ বিপদে পড়লে— তিনি হিন্দু নাকি মুসলিম, খ্রিস্টান নাকি বৌদ্ধ সেই পরিচয় জানার আগেই সহায়তার হাত বাড়ান।

সমান চোখে সবকিছুতে সব ধর্মাবলম্বীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন ড. হাছান মাহমুদ। রাঙ্গুনিয়ায় এমন কোনো মসজিদ-মন্দির-গীর্জা বাকি নেই যেখানে তিনি সহায়তার হাত বাড়াননি। এই সহায়তা কখনও সরকারিভাবে আবার কখনও ব্যক্তিগতভাবে; মোদ্দাকথা এভাবে রাঙ্গুনিয়া ফিরে পেল তার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য-সম্প্রীতি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের একেবারে শেষ প্রান্তে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সীমান্তে অবস্থান সুখবিলাস গ্রামের। সামগ্রিক নাগরিক সুবিধা থেকে বিচ্ছিন্ন সেই অজপাড়া গাঁয়ে কীর্তিমান প্রবাদপুরুষ ড. হাছান মাহমুদের জন্ম। যেই মানুষটি আজ কেবল জাতীয় রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেরও পরিচিত মুখ; যাঁর মধ্যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মেধার অপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সীমানা ছাড়িয়ে যাঁর কীর্তির ঢেউ স্পর্শ করেছে প্যাসিফিক কিংবা আটলান্টিক মহাসাগর। ফলে রাঙ্গুনিয়াবাসীর সাহস, অস্তিত্ব ও মর্যাদার ঠিকানা হয়ে উঠেছেন ড. হাছান মাহমুদ।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এখন রাঙ্গুনিয়ার মানুষের মুখে মুখে একটি কথার প্রচলন খুব নজর কাড়ে যে-কারোরই। সেটি হচ্ছে— রাঙ্গুনিয়া থেকে আগেও অনেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর সেই এমপিদের বছরে অন্তত দুবার কেউ চোখে দেখেছেন; এমন কোনো মানুষ রাঙ্গুনিয়ায় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সেই তুলনায় ড. হাছান মাহমুদ পুরোপুরি ব্যতিক্রম। কেবল বছর নয়, সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার রাঙ্গুনিয়াবাসী তাদের নেতা ড. হাছান মাহমুদকে খুব কাছ থেকে দেখতে পান। কোনো বাছবিচার ছাড়াই যে-কেউ চাইলেই সুখ-দুঃখের কথা বলতে দেখা করতে পারেন ড. হাছান মাহমুদের সাথে।

জানা যায়, একসময় রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা এতই অনুন্নত-নাজুক ছিল যে, জীবন-জীবিকার তাগিদে বা ভিন্ন কোনো প্রয়োজন মেটাতে উপজেলার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যাওয়া-আসার কথা আসলেই অন্তরাত্মায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠতো মানুষ। উপজেলার অভ্যন্তরীন যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক না থাকায় কন্টকাকীর্ণ-বন্ধুর পথ মাড়িয়ে শহরে যেতেও প্রচণ্ড অনাগ্রহ বোধ করতো মানুষজন। ফলে উন্নত চিকিৎসাসেবা—বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়ানোর মতো উন্নত সুযোগ-সুবিধা থেকে ব্যাপকহারে বঞ্চিত হতে থাকে এ উপজেলার মানুষ। বিশেষত গর্ভবতী-অসুস্থ রোগীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তো হতো তাদের। গুটিকয়েক মানুষ আলপথ ধরে কাদাপথ মাড়িয়ে, কিছুদূর পায়ে হেঁটে, তারপর রিকশা, শিলক খাল আর কর্ণফুলী নদী পার হয়ে বহুকষ্টে শহরে পৌঁছাত; তাও অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে।

শুনতে অবাক মনে হলেও রাঙ্গুনিয়াবাসীর সেই করুনার্দ্রচিত্তে কষ্টের দিনগুলো এখন আর নেই। তা এখন স্রেফ ইতিহাস। কারণ রাঙ্গুবাসীর সেই দু:খ ভুলিয়ে দিতে, কষ্ট মোচন করে দিতে সৃষ্টিকর্তা একজন হাছান মাহমুদকে পাঠিয়েছেন ত্রাতা হিসেবে। ফলে এখন কেউ চাইলেই ঘন্টা থেকে দেড় ঘন্টার ভেতর গ্রাম থেকে গাড়ি চেপে শহের পৌঁছে যেতে পারেন।

জনশ্রুতি আছে — রাঙ্গুনিয়ায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে হাত উঁচিয়ে নমস্কার দেওয়ার ভঙ্গিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত তৎকালীন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছিলেন, ‘আমার নমস্কার-আদাব ভোটের দরকার নেই’ অর্থাৎ হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ভোটের দরকার নেই। নেতার এমন বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে কর্মী-সমর্থকদের মাঝে। ধীরে ধীরে সামাজিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রেই অধিকার বঞ্চিত হতে থাকেন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা। সংকোচিত হতে থাকে তাদের বাক-স্বাধীনতা। পূজো বা অন্য সব ধর্মকর্মে মামলা-হামলা চলতে থাকে একের পর এক। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের এমন কাহিল পরিস্থিতি হয়তো এখন অনেকে কল্পনাও স্মরণ করতে চান না।

তারপর সেবার মূলমন্ত্র নিয়ে হাছান মাহমুদের আগমণে পরিসমাপ্তি ঘটে এ অন্ধকারাচ্ছন্ন- অচ্ছুত সময়ের। উদিত হয় নতুন সূর্যের। সুখ-সমৃদ্ধিতে অতিবাহিত হচ্ছিল রাঙ্গুনিয়াবাসীর জীবন-যাপন। কিন্তু বিগত বছর কয়েক আগে আবারও সম্প্রীতি নষ্টের পাঁয়তারা শুরু করে উগ্রবাদী স্বার্থান্বেষী মহল। সেই ষড়যন্ত্রের গভীরতা এতই সদূরপ্রসারী ছিল যে, সেখানে তারা ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। কারণ, তারা জানে এই অঞ্চলের মানুষ এতই ধর্মপ্রাণ যে একবার ধর্মকে ব্যবহার করে অশান্তি তৈরি করা গেলেই কেল্লাফতে। তাই কালবিলম্ব না করে, সুখ-শান্তিতে বসবাস করা মানুষগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয় নানা কূটকৌশল করে। শুরু হয় ভিন্ন-ভিন্ন সম্প্রদায়ের একে অপরের বিরুদ্ধে মারমুখী আচরণ, নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি। পরিস্থিতি এতই উত্তপ্ত হয়েছে যে-কোনো মুহূর্তেই ঘটে যেতে পারতো যে-কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

ঠিক সেই মুহূর্তে আবারও সম্প্রীতির আহ্বান নিয়ে উপস্থিত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। দীপ্তকন্ঠে বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার স্থান বাংলায় নেই’। সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে চপেটাঘাত করেন সাম্প্রদায়িক শক্তির মুখে। তাঁর এমন অনড় অবস্থানে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে আবারও তৈরি হলো সেই সাম্য-সম্প্রীতি।

রাজনীতি সচেতনরা বলছেন, ড. হাছান মাহমুদকে নিয়ে সাধারণ মানুষ, দলের তৃণমূল নেতাকর্মী, রাজনীতি বিশ্লেষক সবারই মত এক ও অভিন্ন। ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বগুণে জাতীয় রাজনীতিতে এক আলোচিত, সফল ও উজ্জ্বল ধ্রুবতারার নাম ড. হাছান মাহমুদ। যিনি তৃণমূল থেকে তিল তিল করে উঠে আসা বঙ্গবন্ধুর ইস্পাত কঠিন আদর্শে গড়া আওয়ামী লীগের দুর্দিন-দু:সময়ের কর্মী। দলের জন্য জীবনে ঝুঁকি নিয়েছেন বহুবার। ব্যক্তিজীবনে তিনি কাউকেই ‘না’ করেন না। নিজের বিরুদ্ধে মাইকিং করা ছেলেকেও চাকরি দিয়েছেন। ধৈর্য, বিনয়, উদারতায়, ‘না’ কিংবা ’পারি না’ শব্দকে বিদায় জানিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন কী দল, কী জনগণ-সবারই আপনজন, প্রকৃত স্বজন-অভিভাবক।

ব্যক্তি চাহিদা, আরাম-আয়েশ, বিলাসব্যসনকে তুচ্ছজ্ঞান করে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের পেছনে সুখে-দুঃখে রাতদিন সময় ব্যয় করেন ড. হাছান মাহমুদ। দলের জন্য উৎসর্গীত, নিবেদিত হওয়া ও ঝুঁকি নেওয়ার মতো বলিষ্ঠতা আছে ড. হাছান মাহমুদের মেধা-মননে। তাই কর্মে, চিন্তায়, আদর্শে, সাহসে ও সততায় প্রমাণ করেছেন তিনিই চট্টগ্রামে আওয়ামী রাজনীতির অন্যতম প্রতিভু, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড।

সংবেদনশীলতায় অনন্য ড. হাছান মাহমুদ

পরিবার খোঁজ নেয় না, তাই অসহায়-মুমূর্ষ সেলিম মাস্টারের ঠাঁই হয় রাজধানী মিরপুরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে। জীবনের সবটুকু ঢেলে দিয়ে মানুষ করা ছেলে-মেয়ের কাছে অপাঙক্তেয় হয়ে উঠা নিসঙ্গ-নির্বান্ধব সেলিম মাস্টার যেনো মৃত্যুর প্রহর গুণছিলেন সেই বৃদ্ধাশ্রমে। গণমাধ্যমে সেলিম মাস্টারের এমন জীর্ণশীর্ণ, রোগা অবস্থা দেখে বেদনার্ত হয়ে পড়েন ড. হাছান মাহমুদ। শত ব্যস্ততাকে পায়ে ঠেলে দৌঁড়ে যান সেলিম মাস্টারের শয্যাপাশে। শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি দেন নানা উপহার ও নগদ অর্থ সহায়তা।

টিউশন করে সমাবর্তনের জন্য জমানো টাকা ভেঙে বাবা বুলু আকন্দকে ঢাকা-শহর ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওসমান গণি নামের এক শিক্ষার্থী। দিনমজুর বাবার স্বপ্ন পূরণে ছেলের যে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা-উদ্যম তাতে চোখ আটকে যায় ড. হাছান মাহমুদের। বাবা-ছেলের এমন হৃদয়গ্রাহ্য গল্পে হৃদয় ছুঁয়ে যায় হাছান মাহমুদের। সেই ছেলেকে পরম মমতায় কাছে ডেকে নেন তিনি। করেন সহযোগিতা এবং চাকরি পেতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন ওসমান গণিকে। সেই ওসমান গণি চাকরি পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন ড. হাছান মাহমুদের কাছে।

শুধু এই দুটিই নয়, এমন সহস্রাধিক মানবিক গল্পের দৃষ্টান্ত আছে ড. হাছান মাহমুদের জীবনগল্পে। শত ব্যস্ততার মাঝেও এমন সব সকরুণ দৃশ্য একজন দুদে রাজনীতিবিদের নজর এড়ায় না, সমস্ত বৈষয়িক আয়োজনকে পাশ কাটিয়ে যিনি অপরের বেদনায় নিজেও বেদনার্ত হয়ে পড়েন; আকাশসম উদার মনের মানুষ না হলে এভাবে মানবিকতার দ্যুতি ছড়িয়ে যাওয়া মোটেও সহজ ব্যাপার না।

তথ্যমন্ত্রীর যে ‘নিরব উদ্যোগ’ দাগ কেটেছে সাধারণ মানুষের মনে-প্রাণে

নিরবে-নিভৃতে খেটে খাওয়া, দুস্থ-অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দিয়ে অন্তরে ব্যাপক তৃপ্তি ও আনন্দ পান ড. হাছান মাহমুদ। তাই গত তিন বছর ধরে সপ্তাহে ন্যূনতম চারদিন সম্পূর্ণ নিজ খরচে অনাহারি মানুষেব মাঝে খাবার বিতরণ করে চলেছেন তিনি। কোনো দিন বিরিয়ানি, কোনো দিন মাছভাজা দিয়ে খিচুড়ি, কখনও সবজি খিচুড়ি বা ডিম খিচুড়ি, আবার কখনও মুরগি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা খাবার বিতরণের এই অনন্য উদ্যোগ কখনো মিডিয়ায় প্রকাশ করতে চান না ড. হাছান মাহমুদ। মাঝেমধ্যে নিজ সন্তানকে দিয়েও এসব খাবারের প্যাকেট বুভুক্ষা মানুষের হাতে তুলে দেন তিনি।

জানা যায়, ‘করোনার সময় মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন, তখন ড. হাছান মাহমুদ খাবার বিতরণের এই উদ্যোগটা নিয়েছিলেন। যা এখনো নিয়মিত চলছে। তাঁর ইচ্ছা আমৃত্যু এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। এবং ছেলে-মেয়েদের বলে দিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর পরও যেন এভাবে অনাহারির মাঝে খাবার বিতরণ অব্যাহত রাখে; এ কার্যক্রম যেন কোনোদিন বন্ধ না হয়।’

এখানেই শেষ নয়, রাঙ্গুনিয়ার মানুষের যে-কোনো বিপদে-আপদে পাশে থাকে ড. হাছান মাহমুদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এন এন কে ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্নভাবে এন এন কে ফাউন্ডেশন লাখো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত, বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেওয়া করোনার ভয়াবহ দিনগুলোতে প্রতিদিনই অভুক্ত মানুষকে খাবার, পোশাক, নগদ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে ব্যাপক সহযোগিতা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কঠোর লকডাউনে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে বাসায় বাসায় পৌঁছে দিয়েছে ভালোবাসার উপহার। তথ্যমন্ত্রীর পরিবারের এই অনন্য উদ্যোগও নজর কেড়েছে চট্টগ্রামবাসীর।

কেবল রাজনৈতিক জীবন নয়, শিক্ষকতায়ও ড. হাছান মাহমুদ তৈরি করেছেন দৃষ্টান্ত

রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয় ও মন্ত্রণালয়ের কাজসহ হাজারও ব্যস্ততায় দিন পার করেন ড. হাছান মাহমুদ। এতো ব্যস্ত সমস্ত সময়ের মাঝেও সরকারি-বেসরকারি নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ও কর্নেল ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, দেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজসহ (এনডিসি) দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ লেকচার দিয়েছেন।

তথ্যমন্ত্রীর এই শিক্ষক জীবন আরও মহীরুহ- আড়ম্বরপূর্ণ হয়ে উঠে প্রিয় শিক্ষক ইসহাক স্যারের চরণধূলি নেওয়ার ঘটনায়। চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি পেয়েছিলেন ইংরেজির শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাকের সান্নিধ্য। একদিন দেখতে গিয়ে প্রবীণ শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাকের পা ছুঁয়ে সালাম করেন তথ্যমন্ত্রী।

সেদিন প্রিয় ছাত্রকে কাছে পেয়ে চোখের জল আটকাতে পারেননি ইসহাক স্যার। চোখেল জল মুছে তথ্যমন্ত্রীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে প্রাণভরে দোয়া করেছিলেন শিক্ষক মো. ইসহাক। কাজী কাদের নেওয়াজ রচিত ‘শিক্ষকের মর্যাদা’কবিতায় যে শিক্ষকবন্দনা আমরা দেখেছি, সেটির বিপরীতে বাস্তবেই শিক্ষকের চরণধূলি নিয়ে যে উদাহরণ তৈরি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, তা মন ছুঁয়ে গেছে পুরো দেশের শিক্ষক-ছাত্রসমাজের।

রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাপক ‘আশাতীত উন্নয়ন’ নিয়ে যা বলেছেন ড. হাছান মাহমুদ

রাঙ্গুনিয়ার ব্যাপক উন্নয়ন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি সব সময় এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সরকারের মন্ত্রী ও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমি প্রতি সপ্তাহে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গুনিয়ায় যাই। কেউ স্বীকার করুক না-করুক, গত সাড়ে ১৪ বছরে রাঙ্গুনিয়ায় এমন কোনও স্কুল-কলেজ ও আলিয়া মাদরাসা নেই, যেখানে নতুন ভবন হয়নি। এমন কোনও বেসরকারি মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডা নেই, বরাদ্দ পায়নি। নতুনভাবে ২৮টি মসজিদ নির্মিত হয়েছে। আগেও অনেকে রাঙ্গুনিয়া থেকে এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। তারা কতটুকু করতে পেরেছেন, আপনারাই ভালো জানেন।’

রাঙ্গুনিয়ার মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক হাজার ছেলে-মেয়ের চাকরি হয়েছে। বিএনপি করে এমন পরিবারের সন্তানদের চাকরিও আমার হাত দিয়ে হয়েছে। ১৪ বছর আগে রাঙ্গুনিয়ার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম মরিয়মনগর ডিসি সড়ক, পারুয়া ডিসি সড়ক ও কালিন্দীরানি সড়কের অবস্থা খারাপ ছিল। আজকে রাঙ্গুনিয়ার সব রাস্তাঘাট পিচ ঢালাই হয়ে গেছে। এভাবে রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি গ্রাম ও জনপদ বদলে গেছে। আপনারা যদি ভবিষ্যতেও সুযোগ দেন, তাহলে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ায় শুধু এলজিইডির মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। আরও অনেক ডিপার্টমেন্ট আছে, সে হিসাব আজকে আনিনি। এমন কোনো স্কুল, মাদরাস নেই যেখানে ভবন পায়নি। সরকারি কাজের কথা বাদ দিলাম, পরিবেশ মন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ কোটি টাকার টিন বিতরণ করেছি। প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে পাওয়ারটিলার, কোনো কোনো ইউনিয়নে ৩টি করেও দিয়েছি। আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তহবিল থেকে ২৪টি নতুন মসজিদ ভবন করে দিয়েছি। প্রতি বছর বেশ কয়েকজনকে ওমরা, হজ্ব করতে পাঠানোর চেষ্টা করি। এখন রাঙ্গুনিয়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫০টির বেশি ঘর করে দিচ্ছি। প্রতিটা ঘরে প্রায় ৩ লাখ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। রোগী ও মরদেহ পরিবহনের জন্য নিজ উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স ও ফ্রিজার ভ্যান দিয়েছি। রাঙ্গুনিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে দরিদ্র কৃষকদের পাওয়ার টিলার, রিকশা, ভ্যান দিয়েছি ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় জনগণের দাবি ছিল দুটি সেতু। একটি শিলক-সরফভাটা, আর একটি হল রাজারহাট সেতু। সেখানে দু’টি জায়গায় শুধু শিলক নদীতে ৫টি সেতু হয়েছে। কেউ কেউ বলেছিলেন হাছান মাহমুদ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার ছেলে সে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কাজ করবে না। সে সময় আমি কথা দিয়েছিলাম নির্বাচিত হলে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার কাজ আগে করবো। আমি কথা রেখেছি। কালীন্দিরাণী সড়ক আর মরিয়মনগর ডিসি সড়ক প্রসস্তকরণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। সেটিও হবে ইনশাআল্লাহ।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ায় কোনো বাড়িতে বিদ্যুৎ নাই, সেটি অনুসন্ধানের বিষয়। অথচ ২০০৯ সালের আগে আমার বাড়িতেই বিদ্যুৎ ছিল না। এখন ১০ বছরের ছেলেকে চেরাগ ও হারিকেনের কথা জিজ্ঞেস করলে সে বলতে পারবে না। কারণ হারিকেন ও চেরাগ সে কখনো দেখেনি। আর এখন বাড়িতে বাড়িতে টেলিভিশন, ফ্রিজ, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেকশন, আবার কারও কারও বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনও আছে। এগুলো এমনি এমনি হয়ে যায়নি। এটি শেখ হাসিনার সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে।’

সার্বিক বিবেচনায় তিন তিন মেয়াদে শুধু সরকার দলের নয়, দলমত নির্বিশেষে সবারই এমপি হতে পেরেছেন একজন হাছান মাহমুদ। জনপ্রভু নয়, প্রকৃতপক্ষে জনসেবক হওয়ার পথ থেকে কখনও বিচ্যুত হননি তিনি। নির্বাচনী এলাকার জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমানভাবে খবর রেখে আস্থার শতভাগ প্রতিদান দিয়ে বিশ্বাস-প্রীতির দেদীপ্যমান পরাকাষ্ঠা দেখাতে পেরেছেন তিনি। ড. হাছান মাহমুদের জাদুকরী নেতৃত্বে রাঙ্গুনিয়ায় আজ কোনো অপূর্ণতা, পরিচয়-সঙ্কট নেই। নির্বাচনী এলাকায় কে আওয়ামী করে আর কে বিএনপি তা কখনও পরখ করেননি তিনি। যে-কারোরই বিপদে-আপদে সবার আগে ঝাপিয়ে পড়েছেন তিনি। ফলে রাঙ্গুনিয়াবাসী কাছে প্রকৃতপক্ষে মাটিও মানুষের নেতা হতে পেরেছেন হাছান মাহমুদ। রাঙ্গুনিয়ার অভূতপূর্ব উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও হাছান মাহমুদকে প্রাথী হিসেবে চায় এই জনপদের সর্বস্তরের মানুষ। কোনোমতেই হারাতে চান না, তাদের দুর্দিনের কাণ্ডারী হাছান মাহমুদকে।

ইতোমধ্যে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে তৃণমূল থেকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করেছেন। তিনবার এমপি, তিনবার মন্ত্রী করেছেন। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত করেছেন। আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। তিনি যখন যে অবস্থায় কাজ করতে বলবেন, দায়িত্ব দেবেন, তা জীবনের বিনিময়ে হলেও শতভাগ সততা, বিশ্বস্ততার সাথে পালনের চেষ্টা করবো। কারণ রাজনীতি আমার কাছে ব্রত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার আদর্শিক প্রতিভূ। তাঁর আদেশ-নির্দেশ আমার কাছে শিরোধার্য।’