মৃত্যুর ৫ ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন মোরশেদ!

চট্টগ্রাম : মৃত্যুর ৫ ঘণ্টা পর মুক্তি মিললো মোরশেদ বিন আবদুল্লাহ’র। স্বজনরা নার্স-চিকিৎসকদের অবহেলার প্রতিবাদ করায় শুধু মোরশেদের লাশই আটকে দেয়নি মেডিকেল কর্তৃপক্ষ, আটকে রাখে মৃতের স্ত্রী ও শ্যালককে। পরে মৃতের স্বজনদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করে লাশ ও আটকদের মুক্তি দেয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

মৃতের স্বজনেরা জানান, গত আড়াই মাস আগে ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত ফটিকছড়ির বখতপুর গ্রামের মো. মোরশেদ বিন আবদুল্লাহ (৪৪) চট্টগ্রাম মেডিকেলের ২৮ নং ওয়ার্ডে ভর্তি হন। মঙ্গলবার সেহেরীর পর থেকেই মোরশেদের স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি হয়। বারবার আকুতির পরও চিকিৎসক-নার্স কেউ সাড়া দেননি। এ অবস্থায় ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে রোগীর মৃত্যু ঘটে। এরপর নার্স এসে মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি মৃতের স্ত্রী রোজিনা আকতার। নার্সের সঙ্গে হাতাহাতির একপর্যায়ে হাসপাতালের পার্টিসান গ্লাসের অংশবিশেষ ভেঙে যায়।

আর তাতেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ছুটে আসে পুলিশ। আটক করে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় মৃতের স্বজন মোস্তফাকে। কিছুক্ষণের জন্য অবরূদ্ধ করে রাখা হয় মোরশেদের স্ত্রী রোজিনা আকতারকেও। লাশের পাশেও ঘেঁষতে দেয়া হয় না কাউকে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় ক্ষতিপূরণ না দিলে জীবিত-মৃত কাউকে ছাড়া হবে না। অবশেষে খোরশেদ নামের মৃতের এক আত্মীয় পুলিশের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দিয়ে সকাল ১১ টার দিকে মৃত মোরশেদ ও তার স্বজনদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই মোহাম্মদ জহির একুশেপত্রিকাডটকমকে জানান, মৃতের স্বজনেরা হাসপাতালের গ্লাস ভাঙচুর করেছে। ভেঙে দিয়েছে নেবুলাইজার মেশিন। পরে দুইপক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু ক্ষতিপূরণ নিয়ে ১১ টার দিকে লাশ দিয়ে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জামালউদ্দিন বলেন, জানালা, পার্টিশান গ্লাস ও মেশিন ভাঙচুর হয়েছে, যা আমি নিজেই দেখে এসেছি। পরবর্তীতে লাশ আটকে রাখা এবং ১০ হাজার টাকা আদায়ের বিষয়টি আমি জানি না। এটি হয়ে থাকলে কোনোভাবেই উচিত হয়নি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ আড়াই মাস অবস্থানকালে মৃতের স্ত্রী সবার সাথে ভদ্রোচিত আচরণ করতেন বলে আশপাশের লোকজন থেকে শুনেছি। আজকে তিনি এমন আচরণ কেন করলেন বোধগম্য নয়।