
ঢাকা : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের জনগণ ও গণতান্ত্রিক বিশ্ব নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। এর সাথে জড়িত প্রক্রিয়া, ব্যক্তি, ফলাফল, শপথ, সংসদ, সরকার সবকিছুই প্রত্যাখ্যাত। অগ্রহণযোগ্য।
শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতির ইতিহাসে ডামি প্রার্থী, ভোটার, এজেন্ট, পর্যবেক্ষক, ফলাফল, এমপি, শপথের মধ্যদিয়ে গতকাল ওয়ান ইলেভেনের দিনে আরেকটি কৃষ্ণতম মেকি সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। ৭ জানুয়ারির তথাকথিত নির্বাচনটি ছিল গণতন্ত্রকামী জনগণের আন্দোলনের পক্ষে এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ডামি নির্বাচন বর্জনের পক্ষে একটি সুস্পষ্ট গণরায়। এই ডামি সরকার ওয়ান ইলেভেনের ধারাবাহিকতা মাত্র।
‘২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি, এই দিনে গভীর ষড়যন্ত্রের নীলনকশার মাধ্যমে দেশটাকে প্রভুদের করদ রাজ্যে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আবারও সেই একই দিনে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলো হাসিনার সরকার।’
তিনি বলেন, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র তারা সফল করলো। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব—গণতন্ত্রের বিনিময়ে বাকশালের দ্বিতীয় সংস্করণ চালু করলেন শেখ হাসিনা। বিদেশি পত্রপত্রিকা মিডিয়া এবং রাজনীতি বিশ্লেষকরা সোচ্চার কণ্ঠে বলছে, বাংলাদেশে একতরফা একদলীয় ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় রাষ্ট্র কায়েম করেছেন শেখ হাসিনা।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ডামি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগ আর তাদের ডামি শরীকদের মধ্যেই শুরু হয়েছে গৃহদাহ।
আওয়ামী লীগের পরাজিত নেতারাই শেখ হাসিনাকে অবৈধ ভোটের প্রধানমন্ত্রী উপাধি দিচ্ছেন। এবার যে নির্বাচনের নামে ভোট ডাকাতি হয়েছে তা নিজেরাই সংবাদ সম্মেলন করে তুলে ধরছেন। এতদিন দেশের সমস্ত জনগণ বলেছে, আমরা বলেছি। আর এখন তারা নিজেরা বলছেন।
তিনি বলেন, থলের বিড়াল সব বেরোচ্ছে। সব অপকর্মের খবর ফাঁস করছে। এতদিন বাংলাদেশ তথা বিএনপি বলেছে শেখ হাসিনা ভোট ডাকাত। এখন আওয়ামী লীগের লোকজনই বলছে- শেখ হাসিনা ভোট চোর, ভোট ডাকাত।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার আবু আসফাক, আমিনুল ইসলাম, তারিকুল আলম তেনজিং প্রমুখ।
