
চট্টগ্রাম : আওয়ামী লীগ ‘ক্যু’ করে ক্ষমতা দখল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার (২ মার্চ) বিকেলে নগরের কাজির দেউরী নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ের মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
বাংলাদেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যায়নি বলে দাবি করে আমীর বলেন, এটা কোনো নির্বাচন নয়। নির্বাচনে তো দুই পক্ষ থাকবে। যেখানে দুপক্ষ থাকবে না সেটা নির্বাচন হতে পারে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে ছিল গায়েবি মামলা, নির্বাচনের পর যোগ হয়েছে ডামি প্রার্থী। ডামি প্রার্থী, ডামি ভোটার আর ডামি নির্বাচন এসব শব্দ যোগ হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ভোট কেন্দ্রে যায়নি। যারা গেছে তাদের স্থানীয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভয় দেখিয়েছে যাওয়ার জন্য। সরকারি কর্মকর্তাদের সুযোগ সুবিধা ছিনিয়ে নেওয়ার ভয় দেখিয়েছে।
সুবিধাবঞ্চিতদের কাছ থেকে সরকারি কার্ড পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এতকিছুর পরও বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনে যায়নি। এটা হচ্ছে আন্দোলনের সুফল। অনেক বলছে ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে। ক্ষমতা তো অনেকভাবে নেওয়া যায়। আমরা দেখেছি বাংলাদেশসহ অনেক দেশে সামরিক বাহিনী ক্যু করে ক্ষমতা নিয়ে নেয়। আওয়ামী লীগ সে ক্যু করেছে। জনগণের তো এখানে কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
খসরু বলেন, বিএনপির আন্দোলন গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন। এটা কোনো দলের বা ব্যক্তির একক আন্দোলন নয়। এ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাব। কিন্তু সেই অপশক্তি বোমা, সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার এবং গুম ও খুনের মাধ্যমে জনগণের সে অধিকার আবার কেড়ে নিয়েছে।
কিন্তু ভালো খবর হচ্ছে আন্দোলনের দাবি ছিল এ সরকারের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনে যাবে না। সে আহ্বানে বিএনপিসহ বাংলাদেশের সমস্ত রাজনীতিবিদ সাড়া দিয়েছে শুধু গুটি কয়েক রাজনীতিবিদ ছাড়া। প্রায়ই সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি একপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশের সুশীল সমাজ একপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশের পেশাজীবি ও সাংবাদিক ভাইরাও একটি পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক ম্যা মা চিং, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দীন মজুমদার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, চট্টগ্রামে খসরু ভাইয়ের অনুপস্থিতি আমরা উপলব্ধি করেছিলাম। আজকে উনার মুক্তিতে সকল নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আগামীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন ত্বরান্বিত করা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। সরকারের সকল ষড়যন্ত্রকে চিহ্ন করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। বিজয় আমাদের হবেই।
এস এম ফজলুল হক বলেন, আজকের মতবিনিময় সভা জনসভায় পরিণত হয়েছে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের জন্য চার মাস জেল কেটেছেন। শেখ হাসিনা সারাদেশকে জেলখানা বানিয়ে রেখেছে। কারাবন্দীদের মুক্তির জন্য আমাদেরকে আন্দোলনের স্টাইল বদলাতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করেছে। যতদিন দেশে গণতন্ত্র ফেরত না আসবে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না আসবে ততদিন ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির আন্দোলন চলবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের মানুষকে প্রাণের সঞ্চার করেছেন। আমাদের আন্দোলন চলবে। আমাদের আন্দোলন ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের লড়াই। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার আদায় করে ছাড়বো।
