
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের প্রতিশোধের হুমকির মুখে সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
গত ১ এপ্রিলে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর তেহরান এর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ওই অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্র সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিবিসি’র মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে বলেছেন, “খুব শিগগিরিই ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা হতে পারে।”
ইসরায়েল বলেছে, এমন যে কোনও হামলা ‘আত্মরক্ষামূলক কিংবা আক্রমণাত্মক’ দু’ভাবেই মোকাবেলা করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
বিবিসি জানায়, ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালানন্ত ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা বেনি গান্তজও উপস্থিত থাকবেন।
দামেস্কে ইসরায়েলের ১ এপ্রিলের বিমান হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরসিজি) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা জাহেদিসহ অন্তত ৭ সামরিক উপদেষ্টা নিহত হয়েছিলেন।
ইসরায়েল এ হামলার দায় স্বীকার না করলেও গত বুধবার এক ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কনস্যুলেটে হামলা করে ইসরায়েল যেন ইরানের মাটিতেই হামলা চালিয়েছে। তারা একটি ভুল করেছে। এর শাস্তি তাদেরকে পেতেই হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, প্রতিশোধ হামলায় ইরান শতাধিক ড্রোন, কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে সামরিক স্থাপনাগুলোকে হামলার নিশানা করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে জার্মানির এয়ারলাইন্স লুফথানসা ইরানে যাওয়া-আসার ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। রাশিয়া নিজেদের নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলে তাদের কর্মীদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তবে ইরানের হুমকির মুখে অন্যত্রও নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
