জেএমবি নেতার ‘চিঠি’ ও পরিকল্পনা!

jmbচট্টগ্রাম: জেএমবির একটি আস্তানা থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ একটি চিঠি পায় চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ চিঠিটি লিখেন জেএমবির চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার এরশাদ হোসেন ওরফে মামুন। গত বছরের ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ এলাকা থেকে গ্রেফতার হন এ জেএমবি নেতা। এ চিঠিতে জেএমবির বিশদ পরিকল্পনার তথ্য লেখা আছে। রয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারকে নিয়ে ইসলামিক স্টেট গঠনসহ যুদ্ধ কৌশল নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গত ৫ জুন সকালে নগরীর জিইসি মোড়ে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হওয়ার পর ‘ওই চিঠি’ ফের আলোচনায় এসেছে। একের পর এক ঘটনা ঘটনার পর চিঠির বিষয়গুলো এখন গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জেএমবির চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার এরশাদ হোসেন ওরফে মামুন ধরা পড়ার পর প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে যে সব তথ্য দিয়েছে তা সত্য হতে চলেছে। নিজেদের ছক অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে চলছে জেএমবি। এরশাদ জেএমবির যেসব সদস্যের নাম বলেছিল, তাদের দুজন ছাড়া বাকি সবাইকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার। উদ্ধার করেছেন অস্ত্র। ভেঙে দিয়েছেন জেএমবির চট্টগ্রামের নেটওয়ার্ক। ফলে বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার সঙ্গে জেএমবির সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনাই বেশী।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জেএমবির একটি আস্তানায় অভিযানকালে ‘ওই চিঠিটি’ উদ্ধার করা হয়। এতে তাদের বেশকিছু পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে। চিঠিটিতে লেখকের নাম লেখা হয়েছে ‘মামুন’। আমরা নিশ্চিত গত বছরের ২৫ মার্চ আকবর শাহ এলাকা থেকে গ্রেফতারের আগে জেএমবির চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার এরশাদ হোসেন ওরফে মামুন এ চিঠিটি লিখেন। গ্রেফতারের আগে সে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। সে হয়তো ধারণা করেছিল, যে কোন সময় সে ধরা পড়ে যাবে অথবা মারা যাবে। তাই জেএমবির পরিকল্পনার বিষয়গুলো লিখে তা অধীনস্তদের কাছে পাঠিয়েছিল সে।

এদিকে জেএমবি নেতার গুরুত্বপূর্ণ এ চিঠির মধ্যে রয়েছে, পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে বাড়ি, বাসা, ব্যাচেলর বাসা তৈরি করা, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদকে টার্গেটভিত্তিক কনভার্ট করা, সংগঠনের কাজকে দ্রুত প্রসারের জন্য নিজেদের মধ্যে দল, উপদল, গোত্রে ভাগ হওয়া, অস্ত্রের মজুদ করা, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কিছু টিপস নেয়া, পর্যায়ক্রমে লেভেল ওয়ান, টু, থ্রি সম্পন্ন করা, ২০১৬ সালের মধ্যে কিছু একটা করার পরিকল্পনার কথা।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে ইসলামিক স্টেট গড়ে তোলা জেএমবির লক্ষ্য। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি করা তাদের টার্গেট। বাংলাদেশকে ৩টি, মিয়ানমারকে ৭টি ও ভারতকে ২১টি সেক্টরে ভাগ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জেএমবি। তিনি বলেন, এক জেএমবি নেতার লেখা চিঠিটি পেয়ে প্রথমে আমরা গুরুত্ব দিইনি। ভেবেছিলাম চিঠির লেখক নানাভাবে অসুস্থ। কিন্তু জেএমবির সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে সে চিঠির লেখককে আমরা অসুস্থ ভাবতে পারছি না। এছাড়া গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন জেএমবি সদস্যের স্বীকারোক্তিতে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠি বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছে। তাদেরকে আমরা সংগঠিত হতে সুযোগ দিচ্ছি না। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির সকল চেষ্টা রুখে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে আমরা সবসময় সতর্ক আছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে শাখা খোলার ঘোষণা দেয় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা। সেসময় ৫৫ মিনিটের এক ভিডিওবার্তায় সংগঠনটির প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। জেএমবির এ অপতৎপরতা আল কায়েদার এ ঘোষণারই অংশ বলে মনে করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।