চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে খুনের জন্য লালখান বাজার এলাকার এক গডফাদারের বাসায় পরিকল্পনা হয়েছে দাবি করে ওই বৈঠকে অংশ নেয়াদের গ্রেফতার দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেতারা। রোববার দুপুরে নগরীর লালদীঘি মাঠ সংলগ্ন জেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়। ছাত্রলীগের অবস্থান কর্মসূচি যেখানে চলছিল তার ঠিক বিপরীতেই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কার্যালয়।
সুদীপ্ত বিশ্বাসের হত্যাকারী ও ইন্ধনদাতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে’ শুরুতে নগর পুলিশের কমিশনারকে ঘেরাওয়ের কথা থাকলেও পরে তা বদলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগ। এই অবস্থান কর্মসূচি ছাত্রলীগকে পালন করতে হয়েছে পুলিশের বেস্টনীর মধ্যে।
নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যাকান্ডের কুশীলবরা প্রকাশ্যে মিটিং সমাবেশ করে হুমকি দিচ্ছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর একজন মাত্র খুনি গ্রেফতার ছাড়া কোন অগ্রগতি নেই এ আলোচিত হত্যাকান্ডের। লালখান বাজার এলাকায় কথিত এক গডফাদার এ খুনের পরিকল্পনা করেছে। লালখান বাজার এলাকায় বসে যারা এ খুনের পরিকল্পনা করেছে তাদের গ্রেফতার করুন। খুনের আগের রাতে যে জনপ্রতিনিধির ভবনে খুনিরা রাতযাপন করেছে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করুন।
পুলিশকে উদ্দেশ্যে করে ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, আমরা জানি চট্টগ্রামের রাজনীতির একটা উচ্ছিষ্ট অংশ এ খুনের ঘটনায় খুনীদের আড়াল করতে পুলিশকে রীতিমত চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আপনাদের সন্তানের সমতুল্য। একজন সন্তানহারা পিতা যেমন খুনিদের সাথে আপোষ করতে পারেনা, ঠিক একইভাবে একজন পুলিশ হিসাবে আপনারা কোন সন্ত্রাসীদের হুমকিতে কাবু হতে পারেন না।
নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, আমাদের প্রশ্ন হলো সুদীপ্ত হত্যার বিচার হবে কি হবে না? আসামিরা গ্রেফতার হবে কি হবে না? একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বরাত দিয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে লালখান বাজারে বৈঠকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। কার নির্দেশে হতাকান্ড ঘটানো হলো? ভিডিও ফুটেজসহ সব তথ্য পুলিশের কাছে আছে। কার নির্দেশে হত্যার পর পাঁচ ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিবৃতি দিয়েছিল?
তিনি বলেন, খুনিরা কত ক্ষমতাশালী তা আমরা দেখতে চাই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ খুনের ইন্ধনদাতাদের গ্রেফতার করার নির্দেশ গিয়েছিলো যা কার্যকর হয়নি। অনতিবিলম্বে লালখানবাজার এলাকার বৈঠকে অংশগ্রহনকারী সকল গডফাদার ও খুনে অংশ নেয়া কিলার বাহিনীকে গ্রেফতার করতে হবে। নয়তো আরো কঠোর কর্মসূচী হিসাবে লালদিঘী ময়দানে ছাত্র সমাবেশের ডাক দেওয়া হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাইফুল্লাহ আনসারী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান তারেক, আবু তৈয়ব সুমন, রুম্মান চৌধুরী, নাজমুল হাসান রুমি প্রমুখ। সমাবেশে সরকারি সিটি কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, এমইএস কলেজ, কর্মাস কলেজ এবং ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
প্রসঙ্গত গত ৬ অক্টোবর নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ায় সুদীপ্ত বিশ্বাসকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে খুন করে দুর্বৃত্তরা। এরপর খুনের ঘটনায় জড়িত মোক্তার হোসেন নামে এক যুবলীগ কর্মীকে গত ১৩ অক্টোবর রাতে নগরীর বড়পোল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
