চট্টগ্রাম : কক্সবাজারে তিনবছরের শিশু ধর্ষণকারী মোহাম্মদ সেলিম (২২) র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। সোমবার দিনগত রাত পৌনে দুইটায় কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে র্যাবের দুই সদস্য। মঙ্গলবার দুপুরে র্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাব-৭ জানায়, চট্টগ্রাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে স্কোয়াড্রন লীডার শাফায়াত জামিল ফাহিম ও মেজর মোঃ রুহুল আমিন-এর নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল শিশু ধর্ষণকারী মোহাম্মদ সেলিমকে ধরার জন্য খুুরুশকুল এলাকায় অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সেলিম ও তার সহযোগীরা র্যাবকে লক্ষ করে এলোপাথারি গুলিবর্ষণ শুরু করে। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে সেলিমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত সেলিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ওয়ানশুটার গান, ১টি ম্যাগাজিন, ৭ রাউন্ড গুলি এবং ৩ রাউন্ড খালি খোসা উদ্ধার করে র্যাব।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার বিমানবন্দর গেইটের সামনে নতুন ফিশারিপাড়া (মগচিতাপাড়া) এলাকায় এক প্রতিবন্ধির তিন বছর বয়সী শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে একই এলাকার ইউনুছের পুত্র সেলিম (২২)। ওই দিন সন্ধ্যায় শিশুটি ঘর থেকে বের হলে তাকে ফুসলিয়ে পাশের একটি খালি বাসায় নিয়ে যায় ধর্ষক সেলিম। সেখানে শিশুকন্যার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে গেলে সেলিম পালিয়ে যায়। পরে লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
পরবর্তীতে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তাকে ৬ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এ ঘটনার পর ধর্ষক ও ধর্ষকের পরিবার ভিকটিমের পরিবারকে বিষয়টি ধামাচাপার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতিসহ প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট ধর্ষক সেলিমের বিরুদ্ধে কক্সবাজর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়।
