বিএনপি-জামায়াত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন : বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিভাগের নবাগত বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর থেকে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদেরকে সরকারি চাকুরিতে নিয়োগদান, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সদরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণসহ বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছেন। অতীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। অনেককে মন্ত্রীও বানিয়েছেন। অথচ জাতির জনকের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী, মৃত্যুবরণকারী ও যোদ্ধাহত অনেক বীর সৈনিকেরা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সারাদেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নিরপেক্ষ তালিকা করেছেন। ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা আজ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে না পড়লে আমরা ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। মুক্তিযোদ্ধাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ বিশে^ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছি। মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম শহরের যে কোনো সুবিধাজনক স্থানে জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তৈরি করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সাথে বিভাগীয় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সভার শুরুতে বিভাগীয় কমিশনারকে ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডারসহ অন্যান্য কমান্ডারগণ।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মো. মোজাফফর আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শঙ্কর রঞ্জন সাহা (অতিরিক্ত সচিব), অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সৈয়দা সারোয়ার জাহান (অতিরিক্ত সচিব) ও বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্তী (অতিরিক্ত সচিব)।

মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বন্দর প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ডার হাদী হোসেন বাবুল, মহানগর ইউনিট কমান্ডের সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ^াস, সহকারী কমান্ডার এফ.এফ. আকবর খান, সহকারী কমান্ডার খোরশেদ আলম (যুদ্ধাহত), সহকারী কমান্ডার রফিকুল ইসলাম, জেলা ইউনিট কমান্ডের সহকারী কমান্ডার রশিদ সিদ্দিকী, সহকারী কমান্ডার মো. বদিউজ্জামান, সহকারী কমান্ডার আবদুল জলিল, কোতোয়ালী থানা কমান্ডার সৌরিন্দ্র নাথ সেন, চান্দগাঁও থানা কমান্ডার কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, পাঁচলাইশ থানা কমান্ডার আহমদ মিয়া, বায়েজিদ থানা কমান্ডার ক্যাপ্টেন (অব.) ছাবের আহমদ, বাকলিয়া থানা কমান্ডার আলী হোসেন, ডবলমুরিং থানা থানা কমান্ডার দোস্ত মোহাম্মদ, পাহাড়তলী থানা কমান্ডার হাজী জাফর আহমদ, বন্দর থানা কমান্ডার কামরুল আলম জতু, পতেঙ্গা থানা কমান্ডার মো. এমরান গাজী, হালিশহর থানা কমান্ডার মো. ইউনুচ, খুলশী থানা কমান্ডার মো. ইউসুফ, সদরঘাট থানা কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, আকবর থানা কমান্ডার সেলিম উল্লাহ, ইপিজেড থানা কমান্ডার আবুল কালাম, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কমান্ডার খাইরুল বশর, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন, অঞ্জন কুমার সেন, তপন ভট্টাচার্য, অহিদ উল্লাহ, এম এ মান্নান খান, ছৈয়দ আহামদ, নুর আহামদ, প্রশান্ত সিংহ, প্রবাল চৌধুরী, আবদুচ ছালাম, মিহির বরণ সাহা, এম মাইনুল হোসেন, মীর মো. মানিক মিয়া, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় সদস্য সরোয়ার আলম মনি ও মহানগরের যুগ্ম আহবায়ক সাহেদ মুরাদ প্রমুখ।