ঢাকা : গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার বিকেল পাঁচটায় তিনি বিমানবন্দরে নামার পরে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে জড়ো হয়ে দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান।
বিএনপি সুত্রে জানা গেছে, আদালতে হাজিরা ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকতেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসার জন্য ১৫ জুলাই লন্ডন যান খালেদা। এরপর বেশ কয়েকবার দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিট কাটা হলেও তিনি ফেরেননি। দেশে নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গেলেও বিএনপি নেত্রী না ফেরায় দলের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু সরকারি দলের অভিযোগ ছিল লন্ডনে যাওয়ার পর পুত্র তারেক রহমানের বাড়িতে বসে তিনি নানা ধরনের চক্রান্ত চালাচ্ছেন। পাকিস্তান ও চিনের মতো দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
দু’টি দুর্নীতি মামলা, একটি মানহানির মামলা এবং মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা অবমাননার একটি মামলায় বিএনপি-নেত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। দলের বর্ষীয়ান নেতা মওদুদ আহমেদ জানিয়েছেন, দু-এক দিনের মধ্যেই তিনি আদালতে হাজিরা দেবেন।
কিন্তু বিএনপি সূত্রে খবর, ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন খালেদা। দেশে ফেরার অন্যতম কারণও সেটি। আগামী সপ্তাহে সুষমা ঢাকায় যাচ্ছেন। এর আগে ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ঢাকা সফরে বৈঠকের কর্মসূচি থাকলেও খালেদা দেখা করতে আসেননি। প্রণব মুখার্জী এ জন্য বিরক্তিও প্রকাশ করেছিলেন। সম্ভবত তার জবাবেই পরের বছর সুষমা তাঁর সফরে খালেদার সঙ্গে বৈঠককে কর্মসূচিতে রাখেননি। কিন্তু খালেদা তাঁর দলের নেতাদের নিয়ে সোনারগাঁও হোটেলে সুষমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। হোটেলের লনে এসে সুষমা দেখা করেন বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এবার তাই দুই নেত্রীর বৈঠক নিয়ে আটঘাট বেঁধেই এগোনো হয়েছে। বিএনপি সূত্রের দাবি, সুষমা বিএনপির দফতরে বা নেত্রীর বাসভবনে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। ভারতীয় দূতাবাস থেকেও এ বিষয়ে দলের নেতৃত্বকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
