চট্টগ্রামের মাদসকম্রাট বস ফারুক র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার আইস ফ্যাক্টরি রোড এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মোহাম্মদ ফারুক হোসেন নামের এক মাদক সম্রাট নিহত হয়েছেন। অভিযানে দুই লাখ এক হাজার ইয়াবা, ১৯ বোতল ফেনসিডিল, বিদেশি দুটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, দুটি ম্যাগজিন ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

মাদক ব্যবসার জগতে ফারুক হোসেন ওরফে বাইট্টা ফারুক ওরফে বস ফারুক ওরফে বিচ্ছু ফারুক (৪২) নামে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১৮টি মামলা থাকার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়ার ধলঘাট নন্দেরখীল এলাকার সাইদুল হকের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্র বিপুল পরিমান মাদক নিয়ে আইস ফ্যাক্টরী রোড এলাকায় বরিশাল কলোনীতে অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে র‌্যাবের একটি দল সেখানে যায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করা শুরু করে। আতœরক্ষা ও সরকারী জানমাল রক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। গুলিবিনিময়ের এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে দুই লাখ এক হাজার ইয়াবা (১ হাজার হলুদ ইয়াবা), ১৯ বোতল ফেন্সিডিল, দুটি ৭ দশমিক ৬৫ মিঃ মিঃ বিদেশী পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, দুটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, দুই রাউন্ড খালি খোসা, মাদক বিক্রির নগদ ৫৩ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি হচ্ছেন চট্টগ্রামের মাদক সম্রাট ফারুক।

র‌্যাব ৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব গুলি চালালে মাদক সম্রাট ফারুক নিহত হন। এ ঘটনায় র‌্যাবের তিন সদস্য আহত হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নতুন ধরণের যে হলুদ ইয়াবার সন্ধান মিলেছে তার মূল হোতা এবং সরবরাহকারী হচ্ছে নিহত ফারুক। গত ২৩ জুন ১৫ লক্ষ ইয়াবা ও ১৬ সেপ্টেম্বর উদ্ধারকৃত ১০ হাজার হলুদ ইয়াবার মূল মালিক নিহত ফারুক।

নিহত ফারুককে এর আগে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বরিশাল কলোনীতে অভিযান চালান। এসময় তাকে ধরা দূরের কথা, তার একজন সহযোগীকে গ্রেফতার করে হজম করতে পারেনি পুলিশ। তার গ্রুপের লোকজন পুলিশের কাছ থেকে ওই আসামীকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়ার ধৃষ্টতা দেখায়। পরে পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় কিছু ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে অভিযান শেষ করে।

ইউসুফ নামের আরেক মাদক সম্রাট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পুরো মাদকব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল ফারুক। গত ৬-৭ বছর ধরে মাদকব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে ফারুক ও ইউসুফ।

শুক্রবার বন্দুকযুদ্ধে ফারুক নিহত হলেও এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইউসুফ। ইউসুফের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে ১৮ টি মামলা আছে। সিআইডি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে মাদকব্যবসার মাধ্যমে ইউসুফ শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার তথ্য দিয়েছে।