প্রত্যয় মজুমদার : চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যার সঙ্গে জড়িত যুবলীগকর্মী মোক্তার হোসেনের সাথে লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি ছবি একুশে পত্রিকা’র হস্তগত হয়েছে।
এর মধ্যে দুটি ছবিতে মোক্তারকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায় মাসুমের সাথে। একটি ছবি কেককাটা উৎসবের। তাতে মাসুমের গা ঘেঁষে বায়ে দাঁড়ানো মোক্তারকে দেখা যাচ্ছে মাসুমের মুখে কেক তুলে দিতে।
দ্বিতীয় ছবিতেও মাসুমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দাঁড়িয়ে পোস দিতে দেখা যায় মোক্তারকে। মোক্তার যে, মাসুমের ঘনিষ্ঠ অনুসারী তা এই দুটি ছবির মাধ্যমে অনুমেয়।
চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারীরা ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় জড়িত বলে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠে। পুলিশের তদন্ত-অনুসন্ধানেও এ নিয়ে ইঙ্গিত পাওয়ার কথা জানিয়ে আসলেও তদন্তের স্বার্থে মুখ খুলছে না পুলিশ।
এর মধ্যেই ১৩ অক্টোবর রাতে সিসিটিভির ফুটেজের সূত্র ধরে মোক্তার হোসেন নামের এক যুবলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর আদালতের নির্দেশে মোক্তারকে চারদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মোক্তার হোসেন।
খুনের ঘটনায় অংশ নেয়া অন্তত ১৫ জনের নাম তিনি জবানবন্দিতে বলেছেন। তবে খুনের নির্দেশদাতার নাম বলেননি। বুধবার ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু ছালেম মো. নোমান।
দুই ঘণ্টার জবানবন্দিতে সেদিনের খুনের ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছেন মোক্তার। দলবেঁধে যারা সুদীপ্তকে মারতে গিয়েছিল তাদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের নাম প্রকাশ করেছে সে। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, ঘটনার দিন সুদীপ্তকে মারতে গিয়েছিল ৩৫ থেকে ৪০জন। এদের মধ্যে ৬ থেকে ৯ জন সুদীপ্তের বাড়িতে যায়। বাকিরা ব্যাকআপ টিম হিসেবে ঘটনাস্থলের অদূরে ছিল। সুদীপ্ত হত্যা নিয়ে প্রাপ্ত সব তথ্য, ছবি, সিসিটিভির ফুটেজ সব সামনে রেখেই পুলিশের তদন্ত টিম কাজ করছে। সহসা আরো ভাল খবর কিংবা অগ্রগতি জানাতে পারব- বলেন ওসি মর্জিনা।
গত ৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সুদীপ্তকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনের বিরুদ্ধে সুদীপ্তর বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস মামলা করলেও পুলিশ বলছে, ঘটনায় জড়িত অনেকেই।
