মালয়েশিয়ায় পাহাড় ধসে নিহত মনিরুলের বাড়িতে শোকের মাতম

আরিফুজ্জামান আরিফ, বেনাপোল : সুখ নামক সোনার হরিণ ধরতে মালয়েশিয়া গিয়ে লাশ হতে হয়েছে মনিরুল ইসলাম (২৬) নামের এক হতভাগ্য যুবকের।

আড়াই বছর আগে দরিদ্র পিতা ধারদেনা করে সংসারে একটু স্বচ্ছলতার আশায় একমাত্র ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠিয়েছিলেন। কথা ছিল কিছুদিন পরই বুকের ধন বাড়িতে ফিরবে, বসাবেন বিয়ের পিঁড়িতে। কিন্তু বিধিবাম, পুত্রের সেই হাসিমাখা মুখের পরিবর্তে দেখতে হচ্ছে লাশ।

স্বজনরা এখন মনিরুলের লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। গত শনিবার মালয়েশিয়ার পেনাংএ পাহাড় ধসে নিহত ৬ বাংলাদেশির মধ্যে মনিরুল ইসলাম একজন। হতভাগ্য মনিরুলের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামে। তিনি স্থানীয় দিনমজুর শহিদুল ইসলামের ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র পুত্রের মৃত্যুর খবরে মা রহিমা খাতুন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বাবাও নির্বাক হয়ে পড়েছেন।

গত শনিবার মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ৮ টার দিকে পাহাড় ধসে মনিরুলসহ ৬ বাংলাদেশি নিহত হন। ঘটনার আধাঘণ্টা পর নিহত মনিরুলের মামা জসিম মোবাইল ফোনে বাড়িতে এই দুর্ঘটনার খবর দেন। মামা জসিম ও মনিরুল মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে চাইনিজ কোম্পানীর বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজ করত।

মনিরুলের পিতা দিনমজুর শহিদুল ইসলাম জানান, আড়াই বছর আগে ধার দেনা করে ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খচর করে কলিং ভিসায় ছেলেকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। সেখানে মনিরুল বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কাজ করত। ইতমধ্যে ধার দেনা শোধ করলেও নতুন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য গত ৬ মাস কোন টাকা পাঠায়নি মনিরুল।

নিহতের বোন ময়না খাতুন জানান, তার ভাই মোবাইল ফোন সব সময় খোলা থাকত এবং ফেসবুকে সরব থাকতেন। ওই দিন সকালে কাজে যোগদানের সময়ও তার ফেসবুক খোলা ছিল। পরে বাংলাদেশ সময় ১০ টার দিকে সংযোগ বিছিন্ন হয়। সব ঠিকঠাক থাকলে নতুন ওয়ার্ক পারমিটের কাগজ হাতে পাওয়ার পর মনিরুল আগামী কিছুদিনের মধ্যে বাড়িতে এসে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল। এজন্য পাত্রীও খোঁজা হচ্ছিল বলে জানান ময়না খাতুন।