হাটহাজারীতে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

মোঃ আলাউদ্দীন,হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : হাটহাজারী উপজেলার প্রায় বিভিন্ন এলাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে সব ধরনের মাদকদ্রব্য। মাদকের নেশায় ডুবে যাচ্ছে উপজেলার উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর হাজারো মানুষ। এ তালিকায় রয়েছে উঠতি বয়সী যুবসমাজ, স্কুল ও কলেজের ছাত্র, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। এতে করে উপজেলায় মাদকাসক্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। যার ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইভটিজিং, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও বখাটেপনা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

সচেতন মহলের দাবী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাটহাজারীতে মাদক ব্যবসা করছে। এসব মাদক বিক্রির তালিকায় প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানেরাও জড়িত। আর প্রভাবশালীদের কারণে প্রশাসনও রয়েছে ‘নীরব’। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলে আসার কারণেই পুরো উপজেলা জুড়ে এখন মাদকে সয়লাব হয়ে আছে। পুলিশ রাজনৈতিক দলের কর্মীকে মাদকসহ গ্রেফতার করলে সঙ্গে সঙ্গে তদবির শুরু করে দেয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতারা। মাদকদ্রব্যের মামলায় মাদক ব্যবসায়ীদেরকে আদালতে চালান দেওয়ার কিছু দিন পরে জামিনে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দুর্বলের কারণে আসামিরা ছাড়াও পেয়ে যায়। অপরদিকে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসা চলে এমন অভিযোগও রয়েছে। ফলে উপজেলায় মাদকের ছড়াছড়ি হলেও মাদক ব্যবসায়ীরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা এবং এসব মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুল, কলেজের তরুণ ছাত্ররা। যার ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যারা কিছুটা বিত্তশালী তারাই ফেনসিডিলের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। আর ‘ইয়াবা’ ‘গাঁজা’র দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এ দুটি মাদকের দিকে নজর ও আকর্ষণ প্রায় সব মাদকসেবীদের। উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং রেল গেইট, ইছাপুর বাজার, হাটহাজারী সদর এলাকার মুন্সির মসজিদ, মিরের হাট, মাটিয়া মসজিদ, আব্বাছিয়ার পুল, রেলস্টেশন, রঙ্গিপাড়া, আদর্শগ্রাম, এগার মাইল, কলেজ গেইটসহ উপজেলার উদালিয়া, নাজিরহাট বাসস্ট্যান্ড, মুনিয়া পুকুর পাড়, সরকারহাট, মুহুরী হাট, চারিয়া নয়াহাট, চৌধুরীহাট বাদল পালের ঘাটা, ফতেয়াবাদ রেলস্টেশন, সন্দ্বীপ কলোনী, বড় দীঘিরপাড়, বুড়িশ্চর, মেখল ইউনিয়নের হাবিরের দোকান, মুন্নার দোকান, লেঙ্গার দোকান, বড় পীরের আস্তানা শরীফের পুর্ব পাশে নামার বাজার ও পশ্চিম মেখল ফকিরহাট এলাকার আনাচে-কানাচে, উত্তর মেখলের বেড়ি বাঁধের উপর, সত্তারঘাটসহ বিভিন্ন চায়ের দোকান, মেখলের ছিদ্দিকিয়া মসজিদ সংলগ্ন, মেখল কাজি পাড়ার (প্রকাশ হরাইল্লা পাড়া) প্রায় প্রতিটি চায়ের দোকানের আশপাশে, কাছিমার বটতল বাজার, গড়দুয়ারা কান্তর আলী হাট বাজার এবং আশপাশের খোলা জায়গা পুকুরপাড়, গড়দুয়ারা হালদা নদীর পাড় সহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার গুরুত্বপুর্ণ স্থানের একাধিক স্পটে অনেকটা প্রকাশ্যেই মাদকের বেচা-কেনা হচ্ছে। এ উপজেলায় ইয়াবা ট্যাবলেট, ভারতীয় বিভিন্ন মদ, ফেনসিডিল, গাঁজা, বাংলা চোলাই মদ থেকে শুরু করে সবধরনের মাদক পাওয়া যায় এবং কুমিল্লার পদুয়া, সুয়াগাজি, ফেনীর মোহাম্মদ আলী, বিলোনিয়া, পশুরাম, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি থেকে বালুর ট্রাক ও মৌসুমী বিভিন্ন ফলের ট্রাকে করে নানা ধরনের মাদক ও মিয়ানমার থেকে টেকনাফ, কক্সবাজার হয়ে সড়ক পথে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বার্মার নানা ধরনের মদ আসে হাটহাজারীতে।

এ বিষয়ে মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এ সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে এবং চলবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তারউননেছা শিউলী বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নাই। উপজেলা থেকে মাদক নির্মূল করতে আমাদের অভিযান চলছে। তিনি মাদকের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।