আইআইইউসির ওয়েবসাইটে নেই বিতর্কিত নদভীর নাম


চট্টগ্রাম : আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) এর ওয়েবসাইট থেকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভী ও আওয়ামীপন্থি ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের নাম ও ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সেখানে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম।

৬ আগস্ট (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এই পরিবর্তন আনা হয়। তবে উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ ও উপ উপাচার্য মছরুরুল মওলার নাম ওয়েবসাইটে বহাল রয়েছে।

আইআইইউসি ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভী, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য রিজিয়া রেজা চৌধুরীসহ অন্য বোর্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে। এছাড়া, উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়ম ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন- ২০১০ অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ১২ লক্ষ টাকা মাসিক বেতনে উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের ৪ এপ্রিল আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভীর নেতৃত্বাধীন আইআইইউসি ট্রাস্টি বোর্ডের নিবন্ধন অনুমোদন করে যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর। চট্টগ্রামের পটিয়ায় জন্ম নেওয়া দেশের শীর্ষ স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে এই অনুমোদন দিতে বাধ্য হয় যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর। অথচ আগের ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দেওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই আরেকটি ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়।

আইআইইউসির অনেক কর্মকর্তাকে নদভীর কথা না মানার কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, তার কথা অমান্য করায় নিয়োগপ্রাপ্ত অনেককে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাদের নদভীর হাতে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে আইআইইউসি’র ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভীর মুঠোফোনে কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।