চট্টগ্রাম : মোহাম্মদ নাসিরের বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। নিজেকে শাহ আমানত শাহ মাজারের খাদেম পরিচয় দেন তিনি। মাজারভক্তদের করেন ওয়াজ-নসিহত। ঝাড়ফুক, তাবিজ-কবজের মাধ্যমে উদ্দেশ্য সিদ্ধির দায়িত্বও নেন। বসেন মাজারের পেছনেই একটা কামরায়। মানত-সিন্নি নিয়ে মাজারে আসা পুণ্যার্থীরাই তার টার্গেট। তাদেরকে শাহ আমানত শাহ হুজুরের কৃপা পাইয়ে দেবার আশ্বাস দেন। একশ্রেণীর মাজারপ্রেমীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে পৌঁছে যান তাদের বাসা-বাড়ি পর্যন্ত। করেন খাতির-যত্ন, আসা-যাওয়া। দেখান ভোজবাজির খেল। এতে করে অতিশয় দুর্বল হয়ে পড়েন কিছু মানুষ। নাছির তাদের ইমোশনকে কাজে লাগেন। হাতিয়ে নেন অর্থ, মূল্যবান জিনিসপত্র। কচি বয়সের মেয়েরাও বাদ যান না তার টার্গেট থেকে।
সম্প্রতি এমন কাহিনী সাজিয়ে নাছির নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সরাইপাড়া এলাকার সাবরিনা জাহান পিংকী (১৭) নামের এক তরুণীকে ঘর থেকে বের করে আনেন। নাছির দাবি করেন পিংকীকে তিনি বিয়ে করেছেন। পিংকীর পরিবার এটা মানতে নারাজ। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা মেয়ে পিংকী কখনো সুস্থ মস্তিষ্কে বাবার চেয়েও বয়সে বড় মাজারব্যবসায়ী নাছিরকে বিয়ে করতে পারে না।
তাই বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পিংকীর পরিবারের লোকজন সদলবলে হাজির হন শাহ আমানত শাহ মাজারে। খুঁজে বের করেন নাছিরকে। উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, হইচই-এর একপর্যায়ে সেখানে মুহূর্তেই শত শত মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাছিরকে ভর্ৎসনা করেন মাজার সংশ্লিষ্ট লোকজন। এরপর কোতোয়ালী থানা পুলিশের হাতে নাছিরকে তুলে দেন তারা।
নাছির বর্তমানে কোতোয়ালী থানা হাজতে আছেন। থানায় দুইপক্ষের লোকজন হাজির হয়েছেন। হাজির হয়েছেন সাবরিনা জাহান পিংকীও। পিংকীর বক্তব্য, নাছির তাকে বিয়ে করেছেন। তাই নাছিরের সঙ্গেই থাকবেন তিনি।
পিংকীর চাচাত ভাই মোহাম্মদ সাহেদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘তাবিজ-কবজের মাধ্যমে ভণ্ড নাছির পিংকীর মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। তাই সে মারাত্মক ভ্রান্তিতে আছে, অস্বাভাবিক আচরণ করছে। স্বাভাবিক থাকলে তিন সন্তানের বাবাকে সে কখনো বিয়ে করার কল্পনাও করতে পারে না। নাছিরের ঘরে স্ত্রী ও তিন কন্যা রয়েছে। বাসা নগরীর বলুয়ার দিঘী এলাকায়। বড় মেয়ে অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী। এ অবস্থায় আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা চাই।
শুক্রবার সকাল ১১টায় ফোনে যোগাযোগ করা হলে কোতোয়ালী থানার ডিউটি অফিসার বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে নাসিরকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়নি। অভিযোগকারীরা বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলতে চাইছেন।
কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহেদুল কবির বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে নেই। আমি থানার বাইরে আছি। এ বিষয়ে খোঁজ নেব।
