এস আলম গ্রুপের কালো টাকা উদ্ধারের চেষ্টা, ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব


ঢাকা : বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কালো টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিআইএফইউ)।

গত রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সংস্থা সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে সাইফুল আলমসহ তাঁর ছয় ভাই, দুই ছেলে এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত সব ধরনের ব্যাংক হিসাব, লকার, সঞ্চয়পত্র, ঋণসহ অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিআইএফইউর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ওই সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা হিসাবের ফরম, গ্রাহক সম্পর্কিত তথ্য (কেওয়াইসি), লেনদেনের বিবরণী, জামানত ও ঋণ পরিশোধের তথ্যসহ সম্পূর্ণ তথ্য সফট কপিতে সংগ্রহ করে বিআইএফইউতে পাঠাতে হবে।

এই নির্দেশনার মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের আর্থিক লেনদেনের ওপর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যাদের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, তাদের নাম, পিতা ও মাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর এবং জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে বিআইএফইউর নির্দেশনায়।

সাইফুল আলমের পাশাপাশি তাঁর অন্য ভাইয়েরা হলেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান, ওসমান গনি, আবদুস সামাদ, রাশেদুল আলম, সহিদুল আলম ও মোরশেদুল আলম। এ ছাড়া সাইফুল আলমের স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং দুই ছেলে আহসানুল আলম ও আশরাফুল আলমের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

ওই তালিকায় আরও রয়েছেন ফারজানা বেগম, শাহানা ফেরদৌস ও মিসকাত আহমেদ।

সাইফুল আলম সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দেশের আর্থিক খাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাংক দখল, ঋণের নামে অর্থ লুটপাট এবং অর্থ পাচারসহ নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন সরকারের বিভিন্ন সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, কমার্স ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি গ্রুপটির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও দেশ ছেড়েছেন।

ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের দখল নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির ঋণের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বা ৫০ হাজার কোটি টাকাই এই গ্রুপের কাছে। ওই বছরের অক্টোবরে অনেকটা একই কায়দায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় গ্রুপটি। ব্যাংকটি থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে তারা।

এই দুটি ব্যাংকই সম্প্রতি এস আলমমুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই দুই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত সপ্তাহে বলেছেন, যাঁরা ব্যাংকের টাকা নিয়ে ফেরত দেননি, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না। টাকা উদ্ধারে আইনগত যত পন্থা আছে, সবই অনুসরণ করা হবে।

সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে নতুন সরকার একের পর এক পদক্ষেপ নিলেও তিনি বা তাঁর পক্ষে এখনো কেউ কোনো বক্তব্য দেননি।