খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাতের পৃষ্ঠপোষকতায় এই হামলা : ড. হাছান

ঢাকা : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশেই বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতায় সাংবাদিকদের গাড়িতে হামলা চালিয়ে এই নাটক সাজিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের মূল ভিত্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপি নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বেগম জিয়ার বাড়ি এবং বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ফেনিতে বেগম জিয়ার ঘাড়ি বহরের পেছনে শুধু সাংবাদিকদের গাড়িতে হামলা হলো। আমাদের কর্মিরা যদি হামলা করতো তাহলে সাংবাদিকদের গাড়িতে হামলা করতো না, বেগম জিয়া এবং বিএনপি নেতাদের গাড়িতে হামলা করতো। কিন্তু সেখানে বিএনপি নেতাদের কোনো গাড়ি ভাঙলো না, শুধু সাংবাদিকদের মাইক্রোবাস ভাঙলো। এতেই রহস্য।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার নির্দেশনা দেওয়া চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে ফেনির লোকাল বিএনপির কোন একজন নেতা কিংবা কর্মীর কথোপকথনের সময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলছেন `সব ঠিক আছে তো? তখন অপর প্রান্ত থেকে বলেছে, সব ঠিক আছে’। তিনি আবার বলেন, `ভুলেও ম্যাডামের গাড়িতে পাথর মারিও না। অপর প্রান্ত থেকে বলেছে ম্যাডামের গাড়িতে কোন ঢিল পড়বে না, সাংবাদিকদের গাড়িতে মারতে হবে এটা আমি বুঝায় দিছি, চ্যানেলের গাড়িতে মারতে হবে।’

তাদের কথোপকথনের এই অডিও রেকর্ড শুনিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির এই যে নোংরা রাজনীতি এবং নিজেরা একটি ঘটনা ঘটিয়ে দেশের মানুষের এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের যে নোংরা অপচেষ্টা করছে তার তীব্র নিন্দা জানাই।’

আওয়ামী লীগের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের কাছে গেছেন, তাদেরকে ত্রাণ দিয়েছেন, তাদের কথা শুনেছেন, বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয় করার জন্য আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমাদের সাধারণ সম্পাদক সেখানে একাধারে ২২দিন ছিলেন এবং আবারো যাচ্ছেন। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম দেশে থাকার পরও দুই মাস পর রোহিঙ্গাদের কাছে গেলেন, এবং খালেদা জিয়া দেশে আসার দশ দিন পরে রোহিঙ্গাদের পাশে যাওয়ার মানবিক কর্মসূচির কথা বলে রোহিঙ্গাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে সেখানে গেছেন। এটিই হচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে পার্থক্য।’

বিএনপিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃস্টি করতে দেওয়া হবে না। জনগণ আপনাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আপনারা যে খেলায় নেমেছেন তা যদি অব্যাহত রাখেন, চিরদিনের জন্য আপনারা জনগণের মন থেকে মুচে যাবেন। তাই এই অপরাজনীতি না করে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জিন্নাত আলী খান জিন্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল প্রমুখ।