
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকার ভারত সরকারের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টন ইত্যাদি নানা ইস্যুতে কথা বলেন।
বিশেষ করে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে তার বক্তব্য ভারতের কাছে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। ড. ইউনূস দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভারত থেকে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতিকে ‘অবন্ধুসুলভ আচরণ’ বলে অভিহিত করেন। এমনকি, তিনি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ ও বিচারের দাবিও তোলেন।
এই সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষিতে ভারত সরকারের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. ইউনূসের এমন বক্তব্যের কারণে জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নাও হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘে ড. ইউনূস ও মোদির একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল ভারতকে। কিন্তু ভারত এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া দেয়নি।
এদিকে, ড. ইউনূস তার সাক্ষাৎকারে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই ইস্যুটি সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ড. ইউনূস আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ইসলামপন্থি হিসেবে তুলে ধরার জন্য ভারতের সমালোচনাও করেন।
এই সাক্ষাৎকারের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ড. ইউনূসের বক্তব্য ভারতের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কে কী প্রভাব পড়বে, তা সময়ই বলে দেবে।
