চট্টগ্রাম: উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অন্তত ৭৫ লাখ লোককে আয়করের আওতায় আনার তাগিদ দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেছেন, শুধু শহরে না করে, গ্রামাঞ্চলেও আয়কর মেলা করা উচিত। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে ‘আয়কর মেলা ২০১৭’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।
প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ঢাকা-চট্টগ্রামসসহ সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করেছে। জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম আয়কর বিভাগ এ মেলার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। আমি মনে করি সেটা আরও আগেই পূরণ করা সম্ভব, যদি আমরা সবাই ট্যাক্স দিই। ভয়ভীতি না দেখিয়ে করের আওতা বাড়ানোই লক্ষ্য হওয়া উচিত। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে এক কোটি টিআইএন হওয়া উচিত। অন্ততপক্ষে ৭৫ লাখ লোককে করের আওতায় আনতে হবে। তাহলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
মন্ত্রী বলেন, সক্ষমরা যদি সবাই কর দেই, তাহলে ২০৩১ সালের মধ্যেই উন্নত দেশের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে বিশ্বাস করি। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ১২ লাখ মানুষ ট্যাক্স পে করি। এত কম করলে কী হবে? দেশে অনেক গ্রোথ সেন্টার বাড়ছে। কিন্তু তারা ট্যাক্স দিচ্ছে না। শুধু শহরে না করে, গ্রামাঞ্চলেও আয়কর মেলা করা উচিত।
তিনি বলেন, আয়কর বিভাগ বন্ধুসুলভ আচরণ করে বুঝিয়ে যদি ব্যবসায়ীদের বলে- আয়কর দিলে লাভ হবে, তাহলে কাজ হবে। তখন সবাই চাইবে হোয়াইট মানি রাখতে। ব্ল্যাক মানি থাকলে বুক ফুলিয়ে হাঁটতে পারে না। আগামী অর্থবছরে সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হবে। সবাই যদি আয়কর দিই তাহলে বাজেটের আকার আরও বাড়বে। সরকার ৬০ রকমের সামাজিক নিরাপত্তা সেবা দিচ্ছে। করের হার যত বেশি হবে, দেশ তত উন্নত হবে।
দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবিলম্বে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার চালু করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী মোশাররফ বলেন, পৃথিবীর অন্য দেশেও ভ্যাট আছে। কোনো কোনো দেশে ৭ শতাংশ। আমরা যদি ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করি তাহলে আদায় ৪ গুণ হবে। কারণ তখন সবাই গিয়ে দিয়ে আসবে। ১৫ শতাংশ বোঝা হয়ে যায়। কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে।
কর অঞ্চল-১ এর কর কমিশনার মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে সপ্তাহব্যাপী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান, চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম এবং উইমেন চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তফা।
